চট্টগ্রামের আয়োজিত হয়েছে ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ভিডিওচিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় আসর। 'দ্রোহ-কান্নার জুলাই' শীর্ষক এ প্রদর্শনীতে এসেছে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গও।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর কাজীর দেউড়ি মুক্তমঞ্চে প্রদর্শিত হয় জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ভিডিওচিত্র। এ সময় আরো তুলে ধরা হয়েছে ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের কয়েক দশকের নিপীড়নের ভিডিও।

জুলাইয়ে মাসজুড়ে চলা আন্দোলন সংগ্রামে মারা গেছেন প্রায় দুই হাজারের মতো বিভিন্ন বয়সের, শ্রেণীপেশার মানুষ। শিক্ষার্থী আবু সাইদ, মুগ্ধ যেমন আছেন তেমনই আছেন রিকশাচালক মানিক মিয়া ও শিশু রিয়া গোপসহ বিভিন্ন পেশা-বয়সের মানুষ। অসংখ্য মানুষের অঙ্গহানি হয়েছে, চিরতরে চোখ হারিয়েছেন অনেকে। ওই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সোশ্যাল মিডিয়া। সেখান থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করে স্টোরিটেলিং প্ল্যাটফর্ম ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের আয়োজন দ্রোহ-কান্নার জুলাই।

গত ২২ নভেম্বর প্লাটফর্মটি প্রথম প্রদর্শনী করে চট্টগ্রামের জামাল খান মোড়ে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে চট্টগ্রামের নানা জায়গায় এ প্রদর্শনী আয়োজনের ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, আন্দোলনের সময়ে সাড়া জাগানো নানা বিদেশী মিডিয়ার প্রতিবেদনগুলোও প্রচার করা হয়। সঙ্গে ছিল আন্দোলনের ওপর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র নির্মিত কিছু প্রামাণ্যচিত্র। অনুষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় দিয়েছে সরকারের গণযোগাযোগ অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সার্চ কমিটির সদস্য এবং ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক সাইদ খান সাগর বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে। কিন্তু আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়নি। একদিকে মজলুম ফিলিস্তিনের পক্ষে লড়াই, অন্যদিকে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লড়াই। তাই খুনী স্বৈরাচারের উৎখাত করলেই হবে না, তারা যেন বাংলার মাটিতে আর কখনো শোষণ-জুলুম চালাতে না পারে। এ জন্য জুলাইয়ের স্মৃতিকে আমাদের জাতীয় মানসে ধরে রাখা অপরিহার্য। অন্যদিকে দেশজুড়ে চলমান সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা মোকাবেলা করতে আমাদের আবারো জুলাইয়ের জাতীয় ঐক্যের কাছে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন।

প্রদর্শনীতে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল। আরো বক্তব্য দেন ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের সংগঠক আবু নাছের আলিফ, ইসলাম জিশাদ, মাহতামুন ফাহিম, অহনা বড়ুয়া, সাইফুল্লাহ নাদিম প্রমুখ।