চক্রাকারে মাথাঘোরা বা ভারসাম্য হারানো অনুভবজনিত সমস্যা-ভার্টিগোর কারণ শনাক্ত করে সুর্নিদিষ্ট চিকিৎসাসেবা দেয়ায় জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইনার ইয়ারজনিত সমস্যা, ভেস্টিবুলার সিস্টেম স্নায়ুবিক সমস্যা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ব্রেইন ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে ভার্টিগো হতে পারে। তাই ভার্টিগোর কারণ চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দিতে হবে।

সোমবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-তে ‘এপ্রোচ টু ভার্টিগো’ শীর্ষক ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল সেমিনারে ভার্টিগোর কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিশেষজ্ঞরা।

সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছার সভাপতিত্বে ও ডা. খালেদ মাহবুব মোর্শেদ (মামুন) এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেন্ট্রাল সেমিনারে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমানসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস কে মাহবুব আলম স্নায়ুবিক সমস্যাসহ ওষুধের মাধ্যমে ভার্টিগোর চিকিৎসা, নাক কান ও গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানু লাল সাহা ভার্টিগোর কানের অভ্যন্তরীণ সমস্যাসহ সার্জিক্যাল চিকিৎসা বিষয়ে আলোকপাত করে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সেমিনারে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, এ ধরণের সেন্ট্রাল সেমিনার ভার্টিগো রোগ নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আর অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতারের বক্তব্য, ভার্টিগো রোগটি প্রধানত নিউরোলজি ও নাক, কান বিশেষজ্ঞগণের বিষয়।

সেমিনারে জানানো হয়, ভার্টিগো একটি মাথাঘোরাজনিত সাধারণ রোগ। সাধারণত শরীরে ভারসাম্যহীন অবস্থার সৃষ্টি, কানের অসুখ, ব্রেইনের সমস্যা, কান ও ব্রেইনের সংযোগ স্থলে সমস্যা, চোখের সমস্যা, ওষুধের পার্শ¦প্রতিক্রিয়া, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ভার্টিগো হয়ে থাকে। এ রোগ নির্ণয়ে রোগীর ইতিহাস নেয়া ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে করা সম্ভব। আর চিকিৎসায় ব্যয়াম, রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপি, ফিজিওথেরাপি, ক্ষেত্র বিশেষে কানের অপারেশন, ব্রেইনের স্ট্রোক হলে তার চিকিৎসা ইত্যাদির প্রয়োজন হয়।