ব্লাড ক্যান্সার ও রক্ত রোগ বিষয়ক সেবা দিতে ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে চালু হয়েছে হেমোটোলজি ও ব্লাড ক্যান্সার সেন্টার। আজ মঙ্গলবার (২৭ মে) এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এবং বিশ্ব ব্লাড ক্যান্সার (২৮ মে) দিবসকে সামনে রেখে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে হাসপাতালটি। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেছে হেলথকেয়ার লিমিটেড।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আফজালুল করিম। তিনি সেন্টারটি উদ্বোধন করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালটির কনসালটেন্ট রক্তরোগ ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস। আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের গাইনি ক্যান্সার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বেগম রোকেয়া আনোয়ার, রক্তরোগ ও ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌসী বেগম, ডা. আরিফ উর রহমান, ডা. রিফাত জিয়া হোসেন, ডা. তাসনিম হোসাইন এবং হাসপাতালের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আলতাফ হোসেন।
অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আফজালুল করিম বলেন, ‘শুরুতে শনাক্ত হলে ব্লাড ক্যান্সার থেকেও আরোগ্য লাভ করা যায়। শিশুদের ব্লাড ক্যান্সারে (এএলএল) ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করতে প্রয়োজন যথাযথ চিকিৎসা ও সেবা। বাংলাদেশে ক্রমাগত ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি লাখে ১১৪ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত। ২০৫০ সালের মধ্যে এখনকার চেয়ে দ্বিগুণ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। ক্যান্সারকে থামাতে এখন থেকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে এর চিকিৎসা সম্ভব। এজন্য রোগ নির্ণয় করতে হবে। শুরুতে ধরা পড়লে ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব।’
ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে দেশের বিশিষ্ট রক্তরোগ বিশেষজ্ঞরা (হেমাটোলজিস্ট) চিকিৎসা ও পরামর্শ দেবেন। একই সঙ্গে এ হাসপাতালে রক্ত রোগ সম্পর্কিত নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।’
সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. আরিফ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘২৮ মে সারা বিশ্বের মতো আমদের দেশেও বিশ্ব ব্লাড ক্যান্সার দিবস উদযাপিত হবে। সারা বিশ্বের পাশাপাশি আমাদের দেশেও ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। তবে আমাদের দেশে মোট ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণায় দেখা যায়, লাখে ১০৬ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত। প্রতিবছর নতুন করে আক্রান্ত হন ৫৩ জন। আমাদের দেশে মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশ মানুষ মারা যায় ক্যান্সার ও ক্যান্সার সংক্রান্ত জটিলতায়। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে ব্লাড ক্যান্সারের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়।’










