শেখ বশিরউদ্দীন

উপদেষ্টা

বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

আমাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় একটা সময়ে একই ভবনে ছিল, মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ভবনে। খুবই ছোট বয়স থেকে উনাকে দেখেছি। বয়স তখন এতই কম ছিল যে উনার সামনে যাওয়ার সাহস হতো না। মাঝে মধ্যে সালাম বিনিময় ও কথাবার্তা হয়েছে। বড় হওয়ার পর তার সংস্পর্শে যাওয়া হয়নি। উনি ব্যবসায়ী সমাজের নৈতিক মানের একটি স্তম্ভ ছিলেন। খুব আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন তিনি। বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিয়েও ছেড়ে দিয়েছিলেন নৈতিক পরাজয় মেনে নেবেন না বলে। নৈতিক মানে উত্তীর্ণ অনুকরণীয় একজন মানুষকে আমরা হারালাম। উনার নৈতিক শিক্ষা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা এবং অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আল্লাহ উনাকে জান্নাতের উচ্চস্থান দান করুন।

তপন চৌধুরী

সাবেক তত্ত্বাবধায়কসরকারের উপদেষ্টা

তিনি আমার বাবার (প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরী) খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার সঙ্গে আমাদের বহু বছরের পারিবারিক সম্পর্ক। একসঙ্গে আমাদের অনেক ব্যবসা আছে যেমন জীবন বীমা, সাধারণ বীমা, ব্যাংক। তার পারিবারিক ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ। খুব কম বয়সে তিনি বাবাকে হারান। কম বয়স থেকেই অনেক পরিশ্রম, সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। এক পর্যায়ে বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেন। এরপর অংশীদারত্বের মাধ্যমে ব্যবসায় আসেন। সুন্দর সম্পর্ক বজায় রেখেই সেই অংশীদারত্ব থেকে বেরিয়ে আসেন। অংশীদারত্ব ব্যবসায় যা বিরল। সর্বোপরি তিনি একজন আদর্শবান মানুষ। আপোসহীন আচরণ সবসময়ই তার মধ্যে ছিল। আপোস না করেও জীবনে যে এগিয়ে যাওয়া যায় তার উজ্জ্বল উদাহরণ তিনি।

এ কে আজাদ

সাবেক সভাপতি,এফবিসিসিআই

শ্রদ্ধেয় সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী দেশপ্রেমিক মানুষ ছিলেন। তিনি একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা। অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান, সর্বোপরি জাতীয় জীবনে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশে যেন বেকারত্ব দূর হয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি যেন হয়—এসব বিষয়ে তিনি ব্যবসায়ী সমাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেয়ারটেকার সরকারের সময় তিনি তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেখিয়েছেন। আপাদমস্তক তিনি একজন সৎ মানুষ ছিলেন এবং তিনি ছিলেন একজন ‘ম্যান অব কমিটমেন্ট’। আমি বিশ্বাস করি জাতি উনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। উনার নীতি এবং আদর্শে আমরা অনুপ্রাণিত হব। নতুন প্রজন্ম উনার দেখিয়ে যাওয়া পথ অনুসরণ করবে। আল্লাহ উনাকে জান্নাতের উচ্চস্থান দান করুন।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান

ব্যবস্থাপনা পরিচালক,মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

উনার মতো একজন মানুষের চলে যাওয়া শুধু মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের জন্য না, গোটা জাতির জন্য ক্ষতির। তিনি আমাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। দুইবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। আমাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বেশি করে কখনো কিছু বলতেন না, ছোট করে বলতেন। তিনি যখন যা বলতেন প্রিসাইজলি বলতেন। তিনি অসম্ভব বিনয়ী ছিলেন। ব্যাংকটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নেয়ার স্বপ্ন ছিল তার। বৈশ্বিক ব্যাংকের মতো করার ইচ্ছা ছিল। যা কিছুই করতেন সবসময় বলতেন কমপ্লায়েন্স ঠিক রাখবা। করপোরেট সুশাসনের ওপর তিনি সবসময় গুরুত্ব দিতেন। কখনো ম্যানেজমেন্টের কোনো সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতেন না। আমরা এমন একজনকে হারালাম যার আরো অনেক কিছু দেয়ার সুযোগ ছিল, আমাদেরও ওনার থেকে আরো অনেক কিছু নেয়ার সুযোগ ছিল।