ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা পেশাদার দৈনন্দিন যেকোনো কাজে ইন্টারনেট এখন দরকারি টুল। যোগাযোগসহ যাবতীয় কাজ সহজ করা টুলটিই আবার হতে পারে বড় ঝুঁকির কারণ। ইন্টারনেটের অনিরাপদ ব্যবহার ও ব্যবহারকারীর নিজস্ব নজরদারির অভাব দেখা দিলে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়াসহ ঘটতে পারে বড় বিপদ। তবে অনলাইনে নিরাপদ থাকতে নিয়মমাফিক কয়েকটি অভ্যাস চর্চায় রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট স্ল্যাশগিয়ারে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের পাঁচটি উপায় সম্পর্কে জানানো হয়েছে

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা

অনেকেই সময় বাঁচাতে দুই ধাপের যাচাই বা টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টুএফএ) ব্যবহার করেন না। কিন্তু পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে অতিরিক্ত এ স্তর বড় সুরক্ষা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে হ্যাকাররা শুধু পাসওয়ার্ড ও ই-মেইল ব্যবহার করে ব্যাংক, ই-কমার্স বা সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট দখলে নেয়। টুএফএ চালু থাকলে এ ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব।

শক্তিশালী ও ভিন্ন পাসওয়ার্ডের ব্যবহার

গবেষণা বলছে, ৪৬ শতাংশ ব্যবহারকারী শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন না। আবার ৬৩ শতাংশ ব্যবহারকারী শুধু প্রয়োজন হলেই পাসওয়ার্ড বদলান। এক পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে যেন অন্য অ্যাকাউন্টের ক্ষতি না হয়, সেজন্য প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড থাকা জরুরি। জটিল পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন হলে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ডিভাইস ও সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট

ফোন, ল্যাপটপ বা অ্যাপের ছোট আপডেটেও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা প্যাচ থাকে। ডেভেলপাররা প্রায়ই দুর্বলতা খুঁজে পেলে তা দ্রুত ঠিক করেন। কিন্তু ২০২১ সালের ক্যাসপারস্কির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫০ শতাংশ ব্যবহারকারী ব্যস্ততার কারণে সময়মতো ডিভাইস আপডেট করেন না। এতে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ে।

ডাটার ব্যাকআপ রাখা

র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণে হ্যাকার ডিভাইস লক করে মুক্তিপণ দাবি করে। নিয়মিত ব্যাকআপ রাখলে এ ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হলেও ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হয়। হার্ডওয়্যার নষ্ট হলেও ডাটার নিয়মিত ব্যাকআপ রাখলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর ভয় থাকে না।

ফিশিং সম্পর্কে সচেতন থাকা

ফিশিং বার্তা সাধারণত খুবই বিশ্বাসযোগ্য দেখায়। অনেক সময় কল বা ই-মেইলের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এসব বার্তা খোলা হয়। এতে ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন ও এফবিআই এ নিয়ে নিয়মিত সতর্কতা প্রকাশ করে। ব্যবসায়িক ই-মেইল জালিয়াতি এখন অন্যতম বড় সাইবার অপরাধ। এজন্য ফিশিং সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য বা সংবাদ পড়া জরুরি। স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে