বিশ্বব্যাপী ডাটা সেন্টারে বিনিয়োগের পরিমাণ চলতি বছর রেকর্ড ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধি এর মূল কারণ বলে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এআই কোম্পানিগুলোর ব্যাপক চাহিদার কারণে বিশ্বে ডাটা সেন্টার নির্মাণে একধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি একে ‘গ্লোবাল কনস্ট্রাকশন ফ্রেনজি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা থামার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ২০২৪ সাল শেষে ডাটা সেন্টারে বিনিয়োগ হয়েছিল ৬০ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৮০ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালের তুলনায় সামান্য কিছু কম।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষক ইউরি স্ট্রুটা বলেন, ‘যেহেতু সহজেই বিদ্যমান ডাটা সেন্টার কেনা সহজ নয়, তাই কোম্পানিগুলো এখন নতুন অবকাঠামো তৈরির দিকে ঝুঁকছে।’
ডাটা সেন্টার ম্যাপের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫০০টি ডাটা সেন্টার রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে আছে প্রায় চার হাজারটি।
বিশ্লেষক ইউরি স্ট্রুটা আরো বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী ডাটা সেন্টারের সংখ্যা ও আকার গত পাঁচ বছরের তুলনায় দ্রুত বাড়বে। এর মূলত কারণ এআইয়ের উচ্চ শক্তি ও কম্পিউটিং চাহিদা।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস বলছে ভিন্ন কথা। ব্যাংকটির মতে, এআই প্রযুক্তি থেকে পর্যাপ্ত আয় না হলে ডাটা সেন্টারে বিপুল বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে এআই ব্যবহারের চাহিদা এত দ্রুত বাড়তে পারে যে বিদ্যমান ডাটা সেন্টারের সক্ষমতা তা সামলাতে হিমশিম খাবে।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওমডিয়া জানিয়েছে, এআইয়ের কারণে বড় ডাটা সেন্টারে বিনিয়োগ আরো বাড়বে। কোম্পানির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার, যা প্রতি বছর গড়ে ১৭ শতাংশ হারে বাড়বে। তবে এআই নিয়ে বিপুল বিনিয়োগ ও আগ্রহ থেকে শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হওয়া যাবে, তা নিয়ে বাজার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের প্রতিবেদনটি এমন এক সময় এসেছে, যখন এআই খাতে এখনই বিপুল ব্যয় করার পক্ষে নেই অনেক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও। কিছু বিনিয়োগকারী মনে করছেন, এআই খাতের কোম্পানিগুলো অনিশ্চিত প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছে।
এআই ডাটা সেন্টার নিয়ে উদ্বেগ শুধু খরচ বা বিনিয়োগে নয়, পরিবেশ ও সমাজকেও এটি প্রভাবিত করছে।
বছরের শুরুতে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ডাটা সেন্টারের জন্য বিশ্বব্যাপী বিদ্যুতের চাহিদা দ্বিগুণের বেশি হবে, যা ৯৪৫ টেরাওয়াট ঘণ্টায় পৌঁছাবে। এটি জাপানের মোট বিদ্যুতের ব্যবহারের তুলনায় সামান্য বেশি।
চলতি মাসে ডয়চে ব্যাংকের তিন বিশ্লেষক একটি চার্ট প্রকাশ করেন। যেখানে দেখানো হয়েছে, ২০২৪-২৯ সাল পর্যন্ত চ্যাটজিপিটি নির্মাতা এআই খাতে ১৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে।
ডয়চে ব্যাংকের জিম রিড বলেন, ‘ওপেনএআই হয়তো প্রচুর বিনিয়োগ টানতে থাকবে এবং অবশেষে এমন পণ্য তৈরি করতে পারবে, যা থেকে ব্যাপক মুনাফা হবে এবং বিশ্বে বিশাল প্রভাব ফেলবে।’










