একাডেমিক গবেষণায় মার্কিন ফেডারেল সরকারের তহবিল কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফটের প্রধান বিজ্ঞানী এরিক হরভিৎজ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গবেষণায় বাজেট ছাঁটাই করার ফলে মেধাবী গবেষক ও নতুন উদ্ভাবনী ধারণাগুলো বিদেশে চলে যেতে পারে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিপরীতে চীনসহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ খাতটিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও ফেডারেল সংস্থাগুলোর গবেষণা বাজেটে কয়েক কোটি ডলারের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। খরচ কমানোর অজুহাতে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের (এনএসএফ) ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি অনুদান বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া অনুদানগুলোর আর্থিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। এসব অর্থ মূলত কম্পিউটার ও মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণায় ব্যয় হওয়ার কথা ছিল।
মাইক্রোসফটের প্রথম প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে ২০২০ সালে দায়িত্ব নেন এরিক হরভিৎজ। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে মডেলে শিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগ করেছে তা ছিল অনন্য। ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসএফ বর্তমানে দেশটির কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মৌলিক গবেষণার ২৫ শতাংশেরও বেশি অর্থায়ন করে থাকে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি এ সমর্থন না থাকলে বর্তমানের “এআই বিপ্লব” দেখতে বিশ্বকে আরো কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হতো।’
বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা মাল্টিমোডাল এআইয়ের মূল ধারণা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণাগার থেকেই এসেছে। গত বছর কম্পিউটার বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ সম্মান ‘টুরিং অ্যাওয়ার্ড’ জয়ী অ্যান্ড্রু বার্টো ও রিচার্ড সাটন যে ‘রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং’ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন তা আজ ওপেনএআই, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মার্গারেট মার্টোনেসি জানান, সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পের অনেক বড় উদ্ভাবনও মূলত সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একাডেমিক গবেষণার ফল।
তহবিল ও বাজেট সংকটে পড়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামোয় পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে অনেক একাডেমিক প্রতিষ্ঠান। এতে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এর সমালোচনা করে অনেকে বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চীনকে বাড়তি সুবিধা দেবে। কারণ দেশটির গবেষকরা বর্তমানে বড় অংকের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে বড় পরিসরে নানা গবেষণামূলক কাজ করছেন।
হরভিৎজ সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যে অনন্য মডেল একসময় বিশ্বকে পথ দেখাত, এখন অন্য দেশগুলো সেটিই অনুসরণ করছে।
আমরা যদি নিজেরা সেই মডেলে অটল না থাকি, তবে মেধাবীদের আকর্ষণ করার ক্ষমতা হারাব। এতে নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণার সব বিনিয়োগ আমাদের হাতছাড়া হয়ে অন্য দেশে চলে যাবে।’










