বিশ্বজুড়ে পড়াশোনার পদ্ধতিতে দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা খাতে এআই বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন বা ৭০৫ কোটি ডলারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বাজারটি প্রায় ৯ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২০৩৫ সাল নাগাদ প্রায় ১৩৬ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। বাজার গবেষণা সংস্থা প্রিসিডেন্স রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষায় এআই ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো পড়াশোনার মান উন্নত করা এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য শেখার প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও ফলপ্রসূ করা। এছাড়া প্রযুক্তিটি শিক্ষকদের খাতা দেখা বা হাজিরা নেয়ার মতো রুটিন কাজগুলো সহজ করে দেয়, যেন তারা পড়ানোয় বেশি সময় দিতে পারেন।

এমনকি কিছু এআই প্লাটফর্ম সম্প্রতি শিক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল আনার কথাও জানিয়েছে। যেমন ‘চ্যাটজিপিটি এডু’। যুক্তরাজ্যের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড সব শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর জন্য চ্যাটজিপিটি এডুতে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। এক বছরের সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত বছর সেপ্টেম্বরে প্লাটফর্মটি বড় পরিসরে চালু করা হয়।

প্রিসিডেন্স রিসার্চের প্রতিবেদনে বলছে, বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের হাতে স্মার্টফোন থাকায় দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরাও পড়ালেখায় এআইয়ের সহায়তা নিতে পারছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। এটি শিক্ষাকে আরো ফলপ্রসূ ও ব্যক্তিগত করতে সাহায্য করছে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ও দক্ষতা অনুযায়ী শেখার অভিজ্ঞতা তৈরি করা যায়। শিক্ষকরা এআই-ভিত্তিক সরঞ্জাম ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষাদানের পদ্ধতি উন্নত করতে পারছেন এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়তে সক্ষম হচ্ছেন।

বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতে এআইয়ের প্রবৃদ্ধির পেছনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক কাজ করছে। প্রযুক্তিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়ন, শিক্ষা খাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিপুল বিনিয়োগ ও বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষা বা ‘এডুটেইনমেন্ট’-এর জনপ্রিয়তা এ বাজারের মূল চালিকাশক্তি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং’ বা এনএলপি প্রযুক্তিতে তৈরি চ্যাটবটগুলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এসব চ্যাটবটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দিন বা রাতের যেকোনো সময় নানা প্রশ্নের উত্তরসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করতে পারছে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহজ হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষকদের সবসময় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার সীমাবদ্ধতাও দূর হচ্ছে।

তবে শিক্ষাক্ষেত্রে এআইয়ের অনেক সুবিধা থাকলেও এর বেশকিছু নেতিবাচক দিক বা চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে নানা গবেষণায়। অনেক গবেষক মনে করেন, শিক্ষার্থীরা হোমওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট বা কঠিন সমস্যার সমাধানের জন্য পুরোপুরি চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করতে শুরু করলে নিজস্ব চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা কমে যায়। এটি শিক্ষার্থীদের অলস করে তুলতে এবং তাদের মৌলিক সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।