বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-মেইল সেবাগুলোর একটি হলো জিমেইল। ব্যবহার সহজ হলেও এতে কিছু গোপনীয়তার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ব্যবহারকারীরা কখন, কীভাবে ও কোন ডিভাইসে ই-মেইল খুলছেন এমন সব তথ্য সংগ্রহ করে গুগল। এসব তথ্য স্প্যাম শনাক্ত করা বা স্মার্ট রিপ্লাইয়ের মতো ফিচার উন্নত করতে ব্যবহার করা হয়। যদিও গুগল এখন আর বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যক্তিগত ই-মেইলের লেখা স্ক্যান করে না, তবুও ব্যবহারসংক্রান্ত এসব তথ্য ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়।
জিমেইলের কিছু প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন করে নিজেদের তথ্য আরো সুরক্ষিত রাখার উপায় তুলে ধরা হলো—
ছোট সেটিং বদলালেই আসবে বড় পরিবর্তন
জিমেইলের ‘আস্ক বিফোর ডিস্প্লেয়িইং এক্সটার্নাল ইমেজেস’ অপশন চালু করলে ই-মেইলে থাকা ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর লোড হবে না। ফলে বিজ্ঞাপন বা প্রচারণামূলক ই-মেইলে লুকিয়ে রাখা ছোট ট্র্যাকিং পিক্সেলের মাধ্যমে কখন ও কোথা থেকে ই-মেইল খোলা হয়েছে, তা জানা সম্ভব হবে না। এ সহজ পরিবর্তন ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে এবং অচেনা প্রেরকের ই-মেইল থেকে সম্ভাব্য ম্যালওয়্যারের ঝুঁকিও কমায়।
ইমেজ ট্র্যাকিং পিক্সেল হলো ই-মেইল, ওয়েবসাইট বা অনলাইনে বিজ্ঞাপনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা খুব ছোট ও অদৃশ্য ছবি (সাধারণত ১×১ আকারের)। এসব ছবি লোড হলেই একটি সার্ভারে সংকেত যায়, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানা, ডিভাইস, অবস্থান ও ই-মেইল বা কনটেন্ট দেখার সময়ের মতো তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য মুছে ফেলা
ই-মেইল ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের সময় নিয়ন্ত্রণ করাও গোপনীয়তা রক্ষার একটি কার্যকর উপায়। এক্ষেত্রে গুগলের ‘মাই অ্যাক্টিভিটি’ ও ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি টুল ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিষেবার সংগৃহীত তথ্য দেখা ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রয়োজন না হলে ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি ও লোকেশন হিস্ট্রি সেটিং বন্ধ করে দেয়া যায়। সেটিংটি পরিবর্তনের জন্য গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করে ‘অ্যাক্টিভিটি কন্ট্রোলস’ পেজে যেতে হবে। সেখানে ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি ও লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ করা যায়। এভাবে ই-মেইল ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপের তথ্য ৩, ১৮ বা ৩৬ মাস পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার অপশন নির্বাচন করা যায়, যাতে তথ্য অনির্দিষ্টকাল সংরক্ষিত না থাকে। তবে জিমেইলে পুরনো ই-মেইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার কোনো বিল্ট-ইন বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা ফিল্টার তৈরি করে ই-মেইল ডিলিট করতে পারেন অথবা তৃতীয় পক্ষের ক্লিনআপ টুল ব্যবহার করতে পারেন।
অ্যাড পারসোনালাইজেশন কমানো
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ টুল বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। গোপনীয়তা বাড়াতে জিমেইলের বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণ (অ্যাড পারসোনালাইজেশন) বন্ধ করাও কার্যকর। এটি বন্ধ করলে বিজ্ঞাপনদাতারা ব্যবহারকারী সম্পর্কে তুলনামূলক কম তথ্য পায়।
এজন্য গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করে ‘মাই অ্যাড সেন্টার’ খুলে পারসোনালাইজড অ্যাডস অপশনটি বন্ধ করতে হবে। এতে ইউটিউব, সার্চ ও ম্যাপসসহ বিভিন্ন গুগল সেবায় ব্যবহারকারীর তথ্য, কার্যকলাপ ও পছন্দের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধ হবে।
মেকইউজঅব অবলম্বনে










