২০২৫-২৯ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে (এআই) বার্ষিক ব্যয় ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হলো এজেন্টিক এআই-সক্ষম অ্যাপ্লিকেশন এবং এজেন্টিক ফ্লিট পরিচালনার সিস্টেম। বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থাটি বলছে, আগামী চার বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে, যা বিশ্বব্যাপী আইটি খাতে মোট ব্যয়ের ২৬ শতাংশের কাছাকাছি।

এআই এজেন্ট হলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে এবং নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারা উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি। এটি তথ্য বিশ্লেষণ করতে, প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারে এবং মানুষের সাহায্য ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করতে পারে। যেমন—একটি এজেন্টিক অ্যাপ ই-মেইল পাঠাতে পারে, একটি রোবট পণ্য সরবরাহ করতে পারে অথবা একটি ট্রাভেল অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্লাইট বুক করতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত এজেন্টিক এআই-সক্ষম অ্যাপ্লিকেশন হলো এমন সফটওয়্যার যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে এবং নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্যদিকে এজেন্টিক ফ্লিট পরিচালনার সিস্টেম একাধিক এআই এজেন্ট বা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম একসঙ্গে পরিচালনা করার জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার।

গবেষণায় দেখা গেছে, এজেন্টিক এআই খাতে বিনিয়োগে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি ঘটছে। বিশেষ করে সফটওয়্যার বিভাগে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের আইটি খরচের বাজেট বরাদ্দ এখন ধীরে ধীরে এজেন্টিক এআই-ভিত্তিক পণ্য ও সেবার দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।

আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড রিসার্চের গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক ভিলার্স বলেন, ‘এআইয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আইটি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিশ্বাসের মধ্যে স্পষ্ট সংযোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সাফল্য বাড়াতে পারে বলে মনে করেন তারাও।’

তিনি জানান, যেসব কোম্পানি গ্রাহকসেবায় এআই সংযুক্ত করছে না বা এআই এজেন্ট ব্যবহার করছে না, তারা বাজারে নিজেদের অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে আছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান বলছেন, খুব শিগগিরই কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারে এআই এজেন্ট।

ব্লগ পোস্টটিতে অল্টম্যান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ২০২৫ সালের মধ্যে এআই এজেন্ট প্রথমবার কোম্পানিতে কাজ শুরু করতে পারে। এসব এজেন্ট থেকে যে ফলাফল পাওয়া যাবে তা ব্যাপকভাবে পরিবর্তন বয়ে আনবে।’

আইডিসির প্রেসিডেন্ট ক্রাফোর্ড ডেল প্রেট বলছেন, ‘এজেন্টিক এআইয়ের ব্যবহারে কর্মীদের ভূমিকা পরিবর্তিত হবে। কিছু চাকরি আরো ফলপ্রসূ হয়ে উঠবে, আবার কিছু চাকরি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে। তাই এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়কেই আরো দ্রুত মানিয়ে নেয়ার মনোভাব রাখতে হবে।’