বিক্রি কম হওয়ায় ভিশন প্রো হেডসেটের উৎপাদন কমিয়েছে অ্যাপল। কম্পিউটিং ডিভাইস হিসেবে বাজারে আনা হেডসেটটি প্রত্যাশামতো সাড়া পায়নি। এতে উৎপাদনের পাশাপাশি বিপণন কার্যক্রমও কমিয়েছে টেক জায়ান্টটি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

বাজার পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান সেন্সর টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভিশন প্রোর বিপণন ব্যয় ৯৫ শতাংশের বেশি কমানো হয়েছে। উচ্চ দামই গ্রাহকদের আগ্রহ কমার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডিভাইসটির দাম শুরু ৩ হাজার ৪৯৯ ডলার থেকে। বছরটিতে প্রতি প্রান্তিকে আইফোন, আইপ্যাড ও ল্যাপটপের বিক্রি হয়েছে কয়েক লাখ ইউনিট, কিন্তু সে তুলনায় বিক্রি হয়নি ভিশন প্রোর।

ডিভাইসটির আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রির সংখ্যা জানায়নি অ্যাপল। তবে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ভিশন প্রো বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪৫ হাজার ইউনিট। অ্যাপলের চীনা উৎপাদন সহযোগী লাক্সশেয়ার ২০২৫ সালের শুরুতে হেডসেটটির উৎপাদন বন্ধ করেছে। পাশাপাশি অ্যাপল সরাসরি বিক্রি সম্প্রসারণও করেনি। ভিশন প্রো এখন মাত্র ১৩টি দেশে পাওয়া যাচ্ছে।

ভিশন প্রোর বিক্রি কমে যাওয়া অনেকের কাছে ২০১৩ সালের গুগল গ্লাসের ব্যর্থতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অভাবের কারণে ডিভাইসটি বাজারে টিকতে পারেনি। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বাজারও চাপে রয়েছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছরে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেটের বৈশ্বিক বিক্রি ১৪ শতাংশ কমতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে কৌশল বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে অ্যাপল। প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি ভিশন প্রোর পরবর্তী সংস্করণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর বদলে এআই-সমৃদ্ধ পরিধানযোগ্য ডিভাইসের দিকে মনোযোগ বাড়ানো হচ্ছে। একই পথে হাঁটছে প্রতিদ্বন্দ্বী মেটা। প্রতিষ্ঠানটি মেটাভার্সকেন্দ্রিক বিনিয়োগ কমিয়ে এআই গ্লাস ও অন্যান্য পরিধানযোগ্য ডিভাইসে জোর দিচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের কারণে মেটার কোয়েস্ট হেডসেট বৈশ্বিক ভিআর বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ দখল করেছে।

মরগান স্ট্যানলির প্রযুক্তি বিশ্লেষক এরিক উডরিং বলেন, ‘দাম, গঠন আর ভিশনওএসের নিজস্ব অ্যাপের ঘাটতির কারণেই ভিশন প্রো প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্রাহকদের সাড়া পায়নি।’

অ্যাপলের জন্য এটি বিরল বাণিজ্যিক ব্যর্থতার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।’