ডিজিটাল দুনিয়ায় ছবি ও ভিডিওর মান উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-কমার্স, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মসহ সবখানেই এআইভিত্তিক টুল ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ছে।
বর্তমানে দর্শক ও পাঠকরা যেকোনো ডিভাইস বা প্লাটফর্মে পরিষ্কার ও ঝকঝকে ছবি এবং মসৃণ ভিডিও দেখতে চান। ঝাপসা ছবি বা কম মানের ভিডিও অনেক সময় ব্যবহারকারীর আগ্রহ কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়ছে বেশি পরিমাণ কনটেন্ট দ্রুত প্রকাশ করার। ফলে হাতে করা সম্পাদনা বা প্রচলিত পদ্ধতিতে এত বড় চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই অনেক প্রতিষ্ঠান এখন এআইভিত্তিক টুল ব্যবহার করে দ্রুত মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টেকটাইমস।
আধুনিক এআই ইমেজ প্রসেসিং টুলগুলো লাখ লাখ ছবির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রশিক্ষণ নেয়া মডেলের মাধ্যমে কাজ করে। এসব টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবির রেজল্যুশন বাড়াতে, আলো ঠিক করতে, রঙ উজ্জ্বল করতে এবং নয়েজ কমাতে পারে। আগে যেসব কাজ করতে দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনারের প্রয়োজন হতো, এখন সেগুলো কয়েক সেকেন্ডেই করা সম্ভব হচ্ছে।
এছাড়া ছবিতে থাকা ওয়াটারমার্ক, লোগো বা অপ্রয়োজনীয় চিহ্ন অনেক সময় বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এডিটিং সফটওয়্যার কিংবা অ্যাপ দিয়ে এগুলো মুছে ফেলতে নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সময় লাগে এবং ভুল হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এখন এআইভিত্তিক টুল ছবি বিশ্লেষণ করে স্বাভাবিকভাবে মুছে ফেলা অংশও পুনর্গঠন করতে পারে।
ছবির পাশাপাশি ভিডিও সম্পাদনায়ও এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এআই টুল ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম বিশ্লেষণ করে ঝাপসা ভিডিও স্পষ্ট করতে, দৃশ্য পরিষ্কার করতে এবং আলো ও রঙের সামঞ্জস্য নির্মাণ করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে হাতে সম্পাদনার প্রয়োজন কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্লাটফর্মে ও ডিভাইসে মসৃণভাবে চলতে পারে।
টেকটাইমসের প্রযুক্তি বিশ্লেষক কার্ল উইলিয়ামস বলছেন, এআই টুলের বড় সুবিধা হলো সব প্লাটফর্মে একই মান বজায় রাখা। ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব জায়গায় একই রকম পরিষ্কার ও মানসম্মত ভিজুয়াল পাওয়া যায়। এতে ব্র্যান্ড বা প্রকাশনার পরিচিতি আরো শক্তিশালী হয়।










