অনলাইনে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের বিষয়টি গত দুই বছরে অনেক সাধারণ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু দেশ এখন ওয়েবসাইট ও অ্যাপগুলোয় ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করতে বাধ্য করছে। শিগগিরই ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করা বাধ্যতামূলক হতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

মূলত শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে রক্ষার কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি এমন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। যদিও অধিকাংশ মানুষ এমন উদ্যোগ সমর্থন করে, তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউজের ২০২৫ সালের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স যাচাই নীতিমালা ইন্টারনেটের স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলছে। ফলে অনলাইনে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয়তা বা অ্যানোনিমিটি ক্রমেই সীমিত হচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে, একসময় বয়স যাচাই নিয়মটি শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট (যেমন: ১৮+ ভিডিও বা ওয়েবসাইট) দেখতে হলে প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু এখন নিয়মটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপ স্টোর, গেমিং প্লাটফর্ম ও তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২৫টির বেশি রাজ্য এখন প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট দেখতে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করতে বাধ্য করছে। একই ধরনের নিয়ম আন্তর্জাতিকভাবেও চালু হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যে অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালের মধ্যে অধিকাংশ ওয়েবসাইট ও অ্যাপে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক হবে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষক কার্ল উইলিয়ামস জানান, বয়স যাচাইয়ের নিয়ম এরই মধ্যে ইন্টারনেটে কাজের ধরন পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। ছোট প্লাটফর্মগুলো নিয়ম মেনে চলার খরচ ও আইনি ঝুঁকির কারণে নিয়ন্ত্রিত বাজার থেকে সরে যাচ্ছে। বড় প্লাটফর্মগুলো সমস্যা এড়াতে বিস্তৃতভাবে প্রবেশাধিকার বন্ধ করছে। একই সঙ্গে অনেক বয়স যাচাই প্রক্রিয়ায় সরকারি পরিচয়পত্র বা বায়োমেট্রিক স্ক্যানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সংবেদনশীল তথ্যের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি হয় এবং তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তার মতে, বয়স যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা গোপনীয়তার জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করে। টেকটাইমস অবলম্বনে