ক্লড শ্যাননসহ চার সহকর্মী ১৯৫৫ সালে প্রথম ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা ‘এআই’ শব্দটি ব্যবহার করেন। প্রায় ৭০ বছর পর এসে এআইয়ের সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক রূপ দাঁড়িয়েছে জেনারেটিভ এআই (জেনএআই) বা চ্যাটবট, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি। একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাম্প্রতিক মডেল আপডেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও চ্যাটবটটি এখনো বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। ডাটা প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআইয়ের বাজারে ৮১ দশমিক ১৩ শতাংশ হিস্যা নিয়ে শীর্ষে আছে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি।
জেনএআই হলো এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, যা নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে পারে; যেমন লেখা, ছবি, ভিডিও, গান বা কোড। চ্যাটজিপিটি, জেমিনি বা অন্যান্য এআই চ্যাটবটই মূলত জেনএআই।
গত বছরের আগস্টের পর থেকে জেনএআইয়ের বাজারে শীর্ষে থাকা চ্যাটজিপিটির বৈশ্বিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ কোটি প্রম্পট নেয় প্লাটফর্মটি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের প্রম্পটই প্রায় ৩৩ কোটি।
কোম্পানিটির সিইও স্যাম অল্টম্যান অক্টোবরে জানান, চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা ৮০ কোটিতে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ এখন আমাদের পরিষেবা ব্যবহার করে এবং দ্রুতগতিতে এ সংখ্যা বাড়ছে। এটা অনেক বড় বিষয়। পাশাপাশি প্রতি মাসে ৫৮০ কোটিবার মানুষ প্লাটফর্মটি ভিজিট করে।
ওপেনএআই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ব্যবহারকারীর আলাপের ২৪ শতাংশ ছিল তথ্য অনুসন্ধানকেন্দ্রিক, যা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বেশির ভাগ ব্যবহারকারীই চ্যাটবটকে বেছে নিচ্ছেন ব্যক্তিগত আলাপের জন্য।
চ্যাটজিপিটির পর জেনএআইয়ের বাজারে দ্বিতীয় স্থানে আছে পারপ্লেক্সিটি। যদিও দুই প্লাটফর্মের বাজার হিস্যার ব্যবধান অনেক। তবু এটি মাইক্রোসফটের কোপাইলট ও গুগলের জেমিনি থেকে এগিয়ে রয়েছে।
সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক পারপ্লেক্সিটির বাজারমূল্য এখন ১৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। কোম্পানিটি বছরেরও কম সময়ে ১ বিলিয়ন থেকে ১৮ বিলিয়ন হয়েছে।
এরই মধ্যে চ্যাটজিপিটিকে ‘এভ্রিথিং অ্যাপ’ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে ফ্রি, গো, প্লাস ও প্রো প্ল্যানস সব ব্যবহারকারীর জন্য গ্রুপ চ্যাট সুবিধা চালু হয়েছে প্লাটফর্মটিতে। গত সপ্তাহে জাপান ও নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ফিচারটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, চ্যাটজিপিটি কেবল চ্যাট করার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে এটি মানুষের সাহায্য ছাড়াই জটিল কাজও করতে পারবে এবং বড় প্রকল্প ও ডাটানির্ভর কাজগুলো দক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।
বাজার গবেষণা সংস্থা গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জেনারেটিভ এআই বাজারের আকার ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। বিভিন্ন শিল্পে টেক্সট থেকে ছবি বা ভিডিও তৈরি, ছবি বা ভিডিওর রেজল্যুশন উন্নত করা ও কাজের ধারা আধুনিক করার জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ার কারণে জেনারেটিভ এআইয়ের চাহিদাও বাড়ছে।










