অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ‘অ্যালবিরিওক্স’ নামের নতুন ম্যালওয়্যার। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ম্যালওয়্যারটি ব্যবহার করে হ্যাকাররা ব্যাংকিং অ্যাপে ঢুকে ওটিপি ছাড়াই লেনদেন করতে পারবে। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
ভুয়া অ্যাপ ও ক্লোন করা প্লে স্টোর তালিকার মাধ্যমে ম্যালওয়্যারটি নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে। আরো উদ্বেগজনক তথ্য হলো, এটি এখন ডার্ক ওয়েবে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক টুলকিট হিসেবে সাইবার অপরাধীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
প্রতারণা প্রতিরোধ প্রতিষ্ঠান ক্লিফাই দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্ড্রয়েড ব্যাংকিং ম্যালওয়্যার পর্যবেক্ষণ করছে। একই ধরনের আচরণ দেখে তারা সম্প্রতি ‘অ্যালবিরিওক্স’ শনাক্ত করে। তাদের মতে, আক্রমণকারীরা ক্ষতিকর অ্যাপের ফাইল ফরমেট এপিকে-কে সাধারণ অ্যাপের মতো সাজিয়ে ব্যবহারকারীদের ম্যানুয়ালি ইনস্টল করাচ্ছে। এ ফাইলগুলো ভুয়া অ্যাপ ওয়েবপেজ, ওয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে ছড়ানো হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের কাছে এটি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে ‘এক্সক্লুসিভ অফার’ বা ‘বিশেষ অ্যাপ ডাউনলোড’-এর প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে।
অ্যালবিরিওক্সকে অন্য ম্যালওয়্যারের থেকে আলাদা করে তার ব্যবহার পদ্ধতি। ডিভাইসে পৌঁছানোর পর প্রথমে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীকে ‘ইনস্টল আননোন অ্যাপস’ অনুমতি দিতে প্ররোচিত করে। অনুমতি মিললেই ছদ্মবেশী ইনস্টলারটি নীরবে আসল ট্রোজানটি ব্যাকগ্রাউন্ডে ইনস্টল হয়।
একবার সক্রিয় হলে ম্যালওয়্যারটি পাসওয়ার্ড বা ওটিপি চুরি করে না। এর পরিবর্তে এটি সরাসরি ব্যাংকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, ফিনটেক ও ক্রিপ্টো অ্যাপগুলোর সঙ্গে কাজ করে। ম্যালওয়ারটি অ্যান্ড্রয়েডের অ্যাকসেসিবিলিটি ফিচার ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর মতো অ্যাপের ভেতর লেনদেন করতে পারে। ফলে অর্থ চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যবহারকারী কিছুই বুঝতে পারেন না।
অ্যান্ড্রয়েড অথরিটিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে গবেষকরা চার শতাধিক নকল অ্যাপ চিহ্নিত করেছেন। এ অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের টার্গেট করতে আর্থিক পরিষেবা খুঁজছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ম্যালওয়্যারটি ‘ম্যালওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস’ হিসেবে ডার্ক ওয়েব ফোরামে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ হ্যাকাররা শুধু সাবস্ক্রাইব করেই সহজে ম্যালওয়্যার ডাউনলোড ও ব্যবহার করতে পারছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও আশপাশের অঞ্চলের আক্রমণকারীরা বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ ও ফোরামের মাধ্যমে এ ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ছড়াচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।










