এআই টুল ব্যবহারে সুবিধা ও বিনোদন থাকলেও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করলে বিপদ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচটি প্রধান কারণে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা ভালো। সেগুলো হলো—
ডাটা ফাঁসের ঝুঁকি
বিশ্বব্যাপী বাড়ছে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি। এফবিআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইন্টারনেটভিত্তিক অপরাধে ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ফিশিং ও তথ্য ফাঁস ছিল অন্যতম প্রধান অপরাধ। অল্প কিছু এআই প্রকল্প সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত। চ্যাটজিপিটিতেও ২০২৩ সালের মে মাসে প্রায় এক লাখ ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করার সতর্কবার্তা দেয়।
ডিপফেকের মাধ্যমে জালিয়াতি
এআই ফটো এডিটিং বা ছবি তৈরি করার টুল ব্যবহার অনেক সময় বিনোদনমূলক মনে হলেও নিজের ছবি আপলোড করলে ব্যবহারকারীরা পরিচয় চুরি বা প্রতারণার শিকার হতে পারেন। ডিপফেক হলো অত্যন্ত বাস্তবসম্মত পরিবর্তিত ছবি বা ভিডিও, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। সঠিক তথ্য থাকলে কেউ আপনার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল বা অন্য অপরাধ করতে পারে।
এআই চ্যাটবটের স্মৃতি ধারণার চেয়েও গভীর
অনেকে মনে করেন এআই সিস্টেম ব্যবহারকারীর কথোপকথনের ইতিহাস মুছে ফেলে। কিন্তু তা নয়, অনেক এআই সিস্টেমে ব্যবহারকারীর চ্যাট হিস্ট্রি সংরক্ষিত থাকে। উদাহরণস্বরূপ, চ্যাটজিপিটি শুধু সম্পূর্ণ অ্যাকাউন্ট মুছে দিলে ‘হার্ড ডিলিট’ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই থেকে তথ্য পুরোপুরি মুছে ফেলা যাচাই করা কঠিন। ব্যবহারকারীদের মনে রাখা উচিত, এ ধরনের তথ্য সঠিক হাতে না গেলে ভবিষ্যতে তথ্যফাঁস বা কোম্পানির নীতি পরিবর্তনের কারণে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তথ্য দিয়ে এআইকে প্রশিক্ষণে বাড়ে সৃজনশীল কাজের ঝুঁকি
এআই ব্যবহারকারীর তথ্য থেকে শেখে। লিংকডইন, মেটা, অ্যামাজনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীর ডাটা ব্যবহার করে এআই প্রশিক্ষণ দেয়। এতে লেখক, শিল্পী বা সৃষ্টিশীল ব্যবহারকারীদের কপিরাইট সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের কপিরাইট বিরোধে বেশকিছু মামলা হয়েছে।
এআই পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন
এআই মডেল প্রশিক্ষণ ডাটার ওপর ভিত্তি করে পক্ষপাতিত্ব তৈরি করতে পারে। চাকরি বাছাই, ঋণ অনুমোদন, ফেসিয়াল রিকগনিশন, সব ক্ষেত্রেই পক্ষপাতিত্ব প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করলে ব্যবহারকারীরা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রোফাইলিং বা বৈষম্যের শিকার হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনকে অচেনা মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের মতো মনে করুন। সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করবেন না, প্রাইভেসি সেটিং ব্যবহার করুন, ছবি বা ডকুমেন্ট আপলোডে সতর্ক থাকুন। এআই ব্যবহারের সময় সচেতন থাকা সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। —স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে










