ব্রাজিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের আইনি জটিলতার মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে ব্লুস্কাই। এটি ধীরে ধীরে পরিচিতি পেতে থাকে ইলোন মাস্কের মালিকানাধীন প্লাটফর্মটির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। তাছাড়া মেটার মতো ইকোসিস্টেমের বিকল্প কী হতে পারে তা নিয়েও প্রায়ই আলোচনা-সমালোচনা শোনা যায় প্রযুক্তি দুনিয়ায়। এক্ষেত্রে সুখবর দিতে পারে ব্লুস্কাইয়ের ফটো-শেয়ারিং অ্যাপ ফ্ল্যাশেস। খবর টেকক্রাঞ্চ।

ব্লুস্কাইয়ের জন্য ফটো-শেয়ারিং অ্যাপটি তৈরি করছেন একজন স্বাধীন ডেভেলপার। তিনি প্লাটফর্মটিতে ব্যবহৃত একই ‘এটি প্রোটোকল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি ফ্ল্যাশেস তৈরিতে ব্লুস্কাইয়ের ক্লায়েন্ট ‘স্কিটস’ প্রোজেক্টের প্রোগ্রামিং কোড ব্যবহার করছেন এ ডেভেলপার।

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্ল্যাশেস চালু হলে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক মাধ্যমের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে ব্যবহারকারীরা মাস্টোডন ও ব্লুস্কাইয়ের মতো ওপেন সোর্স ও ডিসেন্ট্রালাইজড অ্যাপের প্রতি ঝুঁকছেন।

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের ডেভেলপার সেবাস্তিয়ান ভোগেলসাংয়ের তৈরি স্কিটস নামের একটি অ্যাপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হচ্ছে ফ্ল্যাশেস। স্কিটস হচ্ছে ব্লুস্কাইয়ের গ্রাহকমুখী অ্যাপে পরিণত করার ক্ষেত্রে ভোগেলসাংয়ের প্রথম পদক্ষেপ। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৭৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

গত বছরের শেষের দিকে ভোগেলসাং অনুধাবন করেন যে একই কোড ব্যবহার করে তিনি ব্লুস্কাইয়ের ব্যবহারকারীদের জন্য আরো অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন। অ্যাপগুলো মূলত ছবি ও ভিডিওর মতো ভিজুয়াল কনটেন্টনির্ভর হবে। এরই মধ্যে ব্লুস্কাইয়ে ছবি ও ভিডিও সমর্থন করে। ফলে তার জন্য মেটার ইনস্টাগ্রামের মতো ছবি ও ভিডিও কনটেন্ট সমন্বয় করে একটি অ্যাপ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, ‘মূল সোশ্যাল নেটওয়ার্কের জন্য আমি অ্যাপ তৈরির কথা ভাবছিলাম। এরপর প্রয়োজন অনুসারে কী দেখানো বা উপস্থাপন করা হবে সে অনুযায়ী আরো অ্যাপ তৈরি করা হবে। এ বিষয়ে সত্যিই আমি বেশ আগ্রহ খুঁজে পাই।’

তিনি বিশ্বাস করেন ফ্ল্যাশেস নতুন ব্লুস্কাই ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে পারবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‌ইনস্টাগ্রামের কপি করবে না প্লাটফর্মটি। পাশাপাশি এতে একই ধরনের সব ফিচারও থাকবে না।’