চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বৈশ্বিক স্মার্টওয়াচের বাজারে অ্যাপলকে টপকে শীর্ষ স্থান দখল করেছে চীনের হুয়াওয়ে। এ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল চীনের বাজারের। আর গত প্রান্তিকে সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী স্মার্টওয়াচ বিক্রি বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কাউন্টারপয়েন্টের গ্লোবাল স্মার্টওয়াচ শিপমেন্ট ট্র্যাকার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি-মার্চ থেকে টানা পাঁচ প্রান্তিক পতনের পর গত প্রান্তিকে বৈশ্বিক স্মার্টওয়াচের বাজার পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা গেছে। মূলত চীনে স্মার্টওয়াচের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বৈশ্বিক বাজারকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে গেছে। চীনের স্মার্টওয়াচ বাজারে হুয়াওয়ে, শাওমি ও ইমুর মতো ব্র্যান্ডগুলো এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি চীনের স্মার্টওয়াচ বাজারে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এর মূল চালক হলো বাড়তে থাকা স্বাস্থ্য সচেতনতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) সংমিশ্রণ এবং ভোক্তাদের একাধিক ফিচারযুক্ত ডিভাইসের প্রতি বাড়তি আগ্রহ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোক্তারা স্মার্টওয়াচকে কেবল ঘড়ি হিসেবে নয়, বরং ফিটনেস, যোগাযোগ, কেনাকাটা এবং নেভিগেশনের সুবিধা সংযুক্ত একটি ‘একের ভেতর সব’ ডিভাইস হিসেবে দেখছেন। স্মার্টওয়াচ এখন অনেকের জন্য দৈনন্দিন ডিজিটাল জীবনের একটি কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে উঠছে।
বাজার বিশ্লেষক আনশিকা জৈন জানিয়েছেন, চলতি বছর বৈশ্বিক স্মার্টওয়াচ বাজারে হুয়াওয়ে ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা শীর্ষ ১০ ব্র্যান্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ। বৈচিত্র্যময় পণ্য, চীনা বাজারে শক্তিশালী চাহিদা এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে হুয়াওয়ে অ্যাপলকে টপকে বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষে উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, হুয়াওয়ে স্মার্টওয়াচের তিন-চতুর্থাংশের বেশি বিক্রি হয় শুধু চীনে। ব্র্যান্ডটির স্মার্ট ঘড়ির দামও মিড-রেঞ্জের (১০০–থেকে ৪০০ ডলার)। ফলে বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহকের কাছে হুয়াওয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শুধু চীন নয়, প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলেও তাদের বাজার বিস্তার করছে। পাশাপাশি চীনে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। ফোন, ঘড়ি ও অন্যান্য ডিভাইস একসঙ্গে যুক্ত করে ব্যবহার করার সুবিধা (ইকোসিস্টেম কৌশল) হুয়াওয়ের এ প্রবৃদ্ধিকে আরো ত্বরান্বিত করছে।
এদিকে টানা সাত প্রান্তিক ধরে বিক্রি কমতে থাকায় স্মার্টওয়াচ বাজারের শীর্ষস্থান হারিয়েছে অ্যাপল। তবে উন্নতমানের স্মার্টওয়াচ সেগমেন্টে এখনো শীর্ষে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন গ্রাহকের পাশাপাশি পুরনো গ্রাহকরা অ্যাপলের ডিভাইসে আস্থা রাখায় ব্র্যান্ডটি টিকে আছে শীর্ষে।
কাউন্টারপয়েন্টের তথ্যানুযায়ী, শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের মধ্যে গত প্রান্তিকে শাওমি ও ইমুর স্মার্টওয়াচ বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাশ্রয়ী দামের কারণে বেসিক স্মার্টওয়াচ বাজারে এগিয়ে গেছে শাওমি, আর শিশুদের জন্য বিশেষ ফিচার ও জনপ্রিয়তার কারণে কিডস সেগমেন্টে আধিপত্য বজায় রেখেছে ইমু। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের বিক্রি ৩ শতাংশ কমেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের বিক্রি কমার মূল কারণ হলো, অনেক ভোক্তা নতুন মডেল বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কারণ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নতুন প্রজন্মের বেশকিছু স্মার্টওয়াচ বাজারে আনবে ব্যান্ড দুটি।
বিশ্লেষক জৈন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে স্মার্টওয়াচ বাজারের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং বছরে প্রায় ৭ শতাংশ হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পেছনে মূল কারণ হবে নতুন ফিচার, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ও আরো উন্নত স্বাস্থ্য সেন্সরের ব্যবহার।
তিনি জানান, ব্র্যান্ডগুলো এখন ভিন্ন দামে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উন্নতমানের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টওয়াচ উন্মুক্ত করছে। ফলে নতুন ক্রেতা এবং পুরনো ব্যবহারকারীর চাহিদা দুই-ই পূরণ হচ্ছে।










