আজকের স্মার্টফোন যুগে ফোন মানেই বড় টাচস্ক্রিন, গ্লাস-প্যানেল এবং একই রকম নকশা। কিন্তু ২০০০-এর আগ পর্যন্ত মোবাইল ফোন ছিল একেবারেই ভিন্ন। ডিজাইন, টেকসই গঠন ও অভিনব বৈশিষ্ট্যই তখন ফোনের মূল আকর্ষণ। কেউ স্টাইলের জন্য, কেউ প্রযুক্তির জন্য, আবার কেউ স্থায়িত্বের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। টাচস্ক্রিন আসার আগে এ নয়টি ফোন ছিল ব্যবহারকারীদের প্রথম পছন্দ এবং চোখে পড়ার মতো জনপ্রিয়—
মটোরোলা ডাইনাট্যাক
১৯৮০-এর দশকে ডাইনাট্যাককে বলা হয় প্রথম আসল মোবাইল ফোন আইকন। বিশাল ও ভারী ফোনটির দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার ডলার। চার্জ দিতে লাগত প্রায় ১০ ঘণ্টা আর কথা বলা যেত মাত্র ৩০ মিনিট। তবু এটি ছিল সাফল্যের প্রতীক এবং আজকাল এটি সংগ্রাহকদের কাছে বিরল সম্পদ।
মাইক্রোট্যাক ও স্টারট্যাক
১৯৮৯ সালে মাইক্রোট্যাক ফোন আসে ‘সেমি-ফ্লিপ’ নকশা নিয়ে, যা ছোট ও পকেট-ফ্রেন্ডলি। এরপর ১৯৯৬ সালে স্টারট্যাক বাজারে আসে, যা প্রথম সত্যিকারের ফ্লিপ ফোন হিসেবে পরিচিত হয়। হালকা ও স্টাইলিশ এ ফোনে এসএমএস ও ভাইব্রেশন অ্যালার্ট ছিল, যা ব্যবহারকারীদের কাছে তৎকালীন যুগের নতুন উদ্ভাবন মনে হয়।
নকিয়া ৩৩১০
২০০০ সালে আসা নকিয়া ৩৩১০-কে বলা হয় ‘দ্য ব্রিক’। এটি শক্তপোক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির জন্য জনপ্রিয় ছিল। স্নেক টু গেম এবং রঙিন পরিবর্তনযোগ্য কাভার ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ঘন ঘন চার্জ করার ঝামেলা না থাকায় এটি তখনকার যুগের অন্যতম প্রিয় ফোন।
নকিয়া ১১০০
২০০৩ সালে বাজারে আসা নকিয়া ১১০০ ছিল ব্র্যান্ডটির অন্যতম জনপ্রিয় ফোন। ফোনটি আকারে ছোট, তবে শক্তিশালী, সহজ ব্যবহার, দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ এবং মজবুত ডিজাইনের জন্য পরিচিত। নকিয়া ১১০০ কেবল কল ও এসএমএসের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও এর বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এখনো স্মৃতিতে রয়ে গেছে।
নকিয়া কমিউনিকেটর সিরিজ
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এ সিরিজ ফোন ও ল্যাপটপের সংমিশ্রণ। প্রাথমিক মডেলগুলোয় ই-মেইল, ফ্যাক্স ও ডায়াল-আপ ব্রাউজিং সম্ভব। ২০০৭ সালে ই-৯০ মডেলটি বড় স্ক্রিন, পূর্ণ কি-বোর্ড, ওয়াই-ফাই, ৩জি, জিপিএস ও ৩.২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা নিয়ে আসে। এককথায় এটি ছিল হাতের মুঠোয় ছোট্ট ল্যাপটপ।
মটোরোলা রেজার ভি৩
২০০৪ সালে বাজারে আসে পাতলা রেজার ভি৩। অ্যালুমিনিয়াম বডি ও স্টাইলিশ নকশার কারণে এটি ফ্যাশন আইকনে পরিণত হয়। যদিও এর স্পেসিফিকেশন তেমন শক্তিশালী ছিল না, তবু এটি ১৩ কোটি ইউনিট বিক্রি হয় এবং সেলিব্রিটিদের প্রিয় ফোন হয়ে ওঠে।
স্যামসাং এসজিএইচ সিরিজ
স্যামসাংয়ের এসজিএইচ-ই৭০০ (২০০৩) ফ্লিপ ফোনের নিখুঁত নকশা ও রঙিন স্ক্রিনের জন্য পরিচিত। ২০০৪ সালে এসজিএইচ-ডি৫০০ স্লাইডার ফোন জনপ্রিয় করে তোলে। এতে ছিল ব্লুটুথ, এমপিথ্রি প্লেয়ার ও রঙিন স্ক্রিন।
সনি এরিকসন জেড৫৩০আই ও ডব্লিউ৮১০
২০০৬ সালে আসা জেড৫৩০আই ছোট ও রঙিন ফ্লিপ ফোন হিসেবে জনপ্রিয় হয়। ডব্লিউ৮১০ মডেলটি মূলত মিউজিকপ্রেমীদের জন্য তৈরি, এমপিথ্রি প্লেব্যাক, ভালো অডিও কোয়ালিটি এবং রিমুভেবল স্টোরেজের সুবিধা এটিকে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তোলে।
ব্ল্যাকবেরি পার্ল
২০০৬ সালে আসা পার্ল ছিল ছোট, হালকা ও সহজে ব্যবহারযোগ্য। এতে ট্র্যাকবল এবং ‘শিওরটাইপ’ কি-বোর্ড ছিল। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ব্ল্যাকবেরি মেসেঞ্জার (বিবিএম), যা হোয়াটসঅ্যাপের আগের সময়ে যুবকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
এসব ফোন স্মরণ করিয়ে দেয় এমন একটি সময়কে, যখন নকশা, টেকসই গঠন ও নতুন প্রযুক্তিই মোবাইল দুনিয়ার আসল আকর্ষণ ছিল। টাচস্ক্রিনের আগের যুগটি ছিল স্মার্টফোন ইতিহাসের স্বর্ণযুগ।










