যুুক্তরাষ্ট্রে ১৩-১৮ বছর বয়সী হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা স্কুল চলাকালীন দিনে ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ফোনে ব্যয় করে। চলতি বছর ‘জার্নাল অব দি আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর সিনেট।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন স্কুল অব মেডিসিনের এ গবেষণায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত ৬৪০ জন কিশোর-কিশোরীর ফোনের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, স্কুলে থাকাকালীন শিক্ষার্থীরা দিনে গড়ে ১ ঘণ্টা ১৬ মিনিট ফোন ব্যবহার করে। তারা সবচেয়ে বেশি সময় কাটায় ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপে। এরপর রয়েছে ইউটিউব ও ভিডিও গেম। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ১৬-১৮ বছর বয়সী এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মধ্যে ফোন ব্যবহারের প্রবণতা অন্যদের তুলনায় বেশি।
গবেষণা পত্রটির প্রধান লেখক ড. দিমিত্রি ক্রিস্টাকিস বলেন, ‘এসব অ্যাপ শিশুদের আসক্ত করার উপযোগী করেই নকশা করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পূর্ণ মনোযোগ দেয়ার সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’
পরিস্থিতি মোকাবেলায় এরই মধ্যে কিছু অঙ্গরাজ্য এবং স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ বা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে ক্রিস্টাকিস বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত নিয়মগুলো অত্যন্ত শিথিলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রয়োগই হয়নি।’
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলো অ্যালগরিদমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিনোদনমূলক কনটেন্ট ব্যবহারকারীর সামনে নিয়ে এসে মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নিঃসরণ করে। ফলে একটি ‘পজিটিভ ফিডব্যাক লুপ’ বা আসক্তির চক্র তৈরি হয়, যা ব্যবহারকারীকে ফোনের স্ক্রিনে আটকে রাখে।
সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়াকেন্দ্রিক বিনোদনের প্রতি ঝোঁক শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা ও ধৈর্য কমিয়ে দিচ্ছে।
গবেষণা আরো বলছে, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহারের এ সময়ে গণিত ও পাঠ্যবই পড়ার দক্ষতায় ধারাবাহিক অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে। কভিড-১৯ মহামারীর পর এ অবনতির গতি আরো ত্বরান্বিত হয়েছে।










