অনেক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী এখনো মনে করেন যে ফোনের ইউএসবি-সি পোর্ট শুধু চার্জ দেয়ার জন্যই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আধুনিক স্মার্টফোনে এ ছোট পোর্টের সক্ষমতা আরো অনেক বেশি। সঠিক কিছু আনুষঙ্গিক টুল ব্যবহার করলে ফোনকে গেমিং ডিভাইস, স্টোরেজ সেন্টার বা ক্ষুদ্র ডেস্কটপে রূপান্তর করা সম্ভব। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট হাউ টু গিক অবলম্বনে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ইউএসবি-সি পোর্টকে আরো কার্যকরভাবে ব্যবহারের পাঁচটি সহজ উপায় এখানে তুলে ধরা হলো—
গেম কন্ট্রোলার যুক্ত করা
মোবাইল গেম খেলতে অনেকেই ব্লুটুথ কন্ট্রোলার ব্যবহার করেন। তবে একটি তারযুক্ত গেম কন্ট্রোলার আরো স্থির ও নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞতা দেয়। ইউএসবি-সি টু ইউএসবি-এ ওটিজি অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে বেশির ভাগ তারযুক্ত গেমপ্যাড সহজেই ফোনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। তারযুক্ত সংযোগে ইনপুট ল্যাগ কমে যায় এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যাও থাকে না। যারা প্রতিযোগিতামূলক গেম খেলেন তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে সহায়ক। কিছু কন্ট্রোলারের ক্ষেত্রে বাটন রিম্যাপিং অ্যাপ লাগতে পারে, তবে সেটআপ মোটের ওপর খুবই সহজ।
ইউএসবি ড্রাইভ বা এক্সটার্নাল এসএসডির মাধ্যমে অতিরিক্ত স্টোরেজ যোগ করা
অনেক ফোনেই এখন আর মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট থাকে না। ফলে স্টোরেজ সীমিত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ইউএসবি-সি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ বা এক্সটার্নাল এসএসডি খুব কার্যকর সমাধান। এগুলো ফোনে সরাসরি সংযোগ দিয়ে ছবি, ভিডিও, গান বা বড় ফাইল সংরক্ষণ করা যায়। যদিও অ্যাপ বা গেম এসব ড্রাইভ থেকে চলবে না, তবুও ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ খালি রাখতে এগুলো বেশ সাহায্য করে। যাদের কাছে অতিরিক্ত ফ্ল্যাশ ড্রাইভ আছে, তারা শুধু একটি ওটিজি অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলেই চলবে।
এক্সটার্নাল অডিও ডিভাইস ব্যবহার করে শব্দ মান উন্নত করা
ভিডিও রেকর্ডিং, অনলাইন মিটিং বা অডিও নোট নেয়ার জন্য একটি বাহ্যিক ইউএসবি-সি মাইক্রোফোন ফোনের শব্দ মান অনেক বাড়াতে পারে। অধিকাংশ আধুনিক ইউএসবি-সি মাইক্রোফোন ফোনে লাগালেই কাজ শুরু করে, অতিরিক্ত অ্যাপ প্রয়োজন হয় না। ভালো মানের সংগীত শুনতে চাইলে ইউএসবি-সি হেডফোন, ড্যাক বা অ্যাম্প ব্যবহার করা যায়। এগুলো ব্লুটুথ ডিভাইসের তুলনায় আরো পরিষ্কার ও স্থিতিশীল শব্দ দেয়। অনেক ওয়্যারলেস হেডফোনেও ইউএসবি-সি দিয়ে তারযুক্ত মোডে ব্যবহার করার সুবিধা থাকে।
ইউএসবি টেথারিংয়ের মাধ্যমে কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার
ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ইউএসবি-সি পোর্ট বিশেষভাবে কাজে আসে। ফোনকে ইউএসবি কেবলের মাধ্যমে কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করে ‘ইউএসবি টেথারিং’ চালু করলেই কম্পিউটার ফোনের মোবাইল ডাটা ব্যবহার করতে পারে। দূর থেকে কাজ করা বা জরুরি ফাইল পাঠানোর সময় এটি অত্যন্ত উপকারী। একইভাবে ফোনের ওয়াই-ফাই সংযোগও কম্পিউটারে দেয়া যায়, ফলে ফোন এক ধরনের ওয়াই-ফাই রিসিভারের মতো কাজ করে।
ইউএসবি হাব ব্যবহার করে ফোনকে ক্ষুদ্র পিসিতে রূপান্তর করা
একটি উপযোগী ইউএসবি হাব ফোনে একাধিক ডিভাইস যুক্ত করার সুযোগ দেয়। কিবোর্ড, মাউস, এক্সটার্নাল স্টোরেজ, মাইক্রোএসডি কার্ড, মনিটর বা অডিও ডিভাইসসহ সবই একসঙ্গে ব্যবহার করা যায়। কিছু হাব পাওয়ার ডেলিভারিও সমর্থন করে, ফলে ফোন চার্জ নিতে থাকে এবং একই সঙ্গে পিসির মতো কাজও করে। তবে হাব কেনার আগে ফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করা জরুরি।
ছোট একটি ইউএসবি-সি পোর্ট অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে অনেকটা বহুমুখী করে তুলতে পারে।










