নতুন একটি উইন্ডোজ পিসি কিনলে শুরুতে এর গতি ও কার্যক্ষমতা ব্যবহারকারীকে মুগ্ধ করে। দ্রুত চালু হয় ডিভাইস, অ্যাপ খুলতে সময় লাগে না, এক কাজ থেকে আরেক কাজে যেতে কোনো ঝামেলা হয় না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে গতি অনেকটাই কমে আসে। ফলে পিসি চালু হতে দেরি হয়, অ্যাপ বদলাতে ল্যাগ দেখা যায়, এমনকি ইন্টারনেট ব্রাউজিংও ধীর হয়ে পড়ে। এটি উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট পকেট-লিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসি ধীর হয়ে যাওয়া মানেই যে নতুন ডিভাইস কেনা বা হার্ডওয়্যার বদলানো দরকার, তা নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ ও সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমেই আগের গতি অনেকটাই ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সে প্রতিবেদনের আলোকে ধীরগতির উইন্ডোজ ১১ পিসিকে দ্রুতগতির করতে পাঁচটি সহজ উপায় তুলে ধরা হলো —
অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বন্ধ করা
পিসি চালু হওয়ার সময় অনেক অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়। এর মধ্যে কিছু অ্যাপ প্রয়োজনীয় হলেও অনেকগুলোই দৈনন্দিন কাজে দরকার হয় না। এসব অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থেকে মেমোরি ও প্রসেসরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, ফলে পিসি চালু হতে সময় বেশি লাগে। এ সমস্যা সমাধানে ব্যবহারকারীরা Settings > Apps > Startup অপশনে গিয়ে দেখতে পারেন কোন কোন অ্যাপ চালুর সময় চালু হচ্ছে এবং সেগুলোর প্রভাব কতটা। যেসব অ্যাপ জরুরি নয়, সেগুলো বন্ধ করে দিলে পিসি দ্রুত চালু হবে এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সও উন্নত হবে।
অব্যবহৃত অ্যাপ আনইনস্টল করা
অনেক সময় প্রয়োজনের জন্য ইনস্টল করা অ্যাপ পরে আর ব্যবহার করা হয় না। এসব অ্যাপ পিসিতে জমে থেকে স্টোরেজ দখল করে এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস চালু রাখে। এতে পিসি ধীর হয়ে যেতে পারে। মাসে অন্তত একবার Settings > Apps > Installed apps অপশনে গিয়ে ইনস্টল করা অ্যাপগুলোর তালিকা দেখা উচিত। যেসব অ্যাপ আর ব্যবহার হয় না, সেগুলো আনইনস্টল করলে স্টোরেজ খালি হবে এবং পিসির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে।
মাইক্রোসফট পিসি ম্যানেজার ব্যবহার করা
মাইক্রোসফটের বিনামূল্যের একটি অ্যাপ হলো পিসি ম্যানেজার, যা পিসির স্বাস্থ্য ও রিসোর্স ব্যবহারের তথ্য এক জায়গায় দেখায়। এ অ্যাপের মাধ্যমে কতগুলো অ্যাপ চলছে, কত মেমোরি ব্যবহার হচ্ছে এসব সহজেই জানা যায়। এর ‘হেলথ চেক’ ফিচারটি বিশেষভাবে উপকারী। এটি দেখায় কতটা স্টোরেজ খালি করা সম্ভব এবং কোন কোন অ্যাপ মুছে ফেলা যেতে পারে। প্রযুক্তি বিষয়ে কম অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি সহজ ও নিরাপদ সমাধান।
ব্রাউজারের সেটিংস ঠিক করা
বর্তমানে কাজের বড় অংশই ওয়েব ব্রাউজারের ওপর নির্ভরশীল। তবে ব্রাউজার অনেক বেশি র্যাম ব্যবহার করে, বিশেষ করে একসঙ্গে অনেক ট্যাব ও এক্সটেনশন চালু থাকলে। মাইক্রোসফট এজ ব্যবহার করলে ব্রাউজার বন্ধ থাকাকালে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস বন্ধ করে দেয়া যায়। গুগল ক্রোমে ‘মেমোরি সেভার’ চালু করলে অপ্রয়োজনীয় ট্যাব কম র্যাম ব্যবহার করে। পাশাপাশি যেসব এক্সটেনশন ব্যবহার হয় না, সেগুলো বন্ধ রাখলে পিসির গতি বাড়ে।
ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার স্ক্যান করা
ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার অনেক সময় অজান্তেই পিসিতে ঢুকে পড়ে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে সিস্টেম ধীর করে দেয়। এছাড়া বারবার পপ-আপ দেখানোসহ নানা বিরক্তিকর সমস্যাও তৈরি করে। উইন্ডোজের বিল্ট-ইন মাইক্রোসফট ডিফেন্ডার নিয়মিত আপডেট রাখলে ভালো সুরক্ষা দেয়। প্রয়োজনে ম্যালওয়্যারবাইটসের মতো বিশ্বস্ত থার্ড পার্টি অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলে লুকিয়ে থাকা হুমকি দূর করা সম্ভব।










