কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করতে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া স্টার্টআপ গ্রোকের কাছ থেকে চিপ প্রযুক্তির লাইসেন্স নিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রোক। খবর রয়টার্স।

চুক্তির আওতায় গ্রোকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোনাথন রস, প্রেসিডেন্ট সানি মাদ্রা এবং প্রতিষ্ঠানটির আরো কয়েকজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী এনভিডিয়ায় যোগ দেবেন। জোনাথন রস এর আগে গুগলের এআই চিপ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এনভিডিয়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রও লাইসেন্স চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে চুক্তির আর্থিক শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।

গ্রোক মূলত এআই ‘ইনফারেন্স’ প্রযুক্তিতে কাজ করে। ইনফারেন্স হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আগে প্রশিক্ষণ দেয়া এআই মডেল ব্যবহারকারীর প্রশ্ন বা নির্দেশনার জবাব দেয়। বর্তমানে এনভিডিয়া এআই মডেল প্রশিক্ষণের বাজারে শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও ইনফারেন্স বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। এ খাতে এনভিডিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস (এএমডি), গ্রোক ও সেরেব্রাস সিস্টেমসের মতো স্টার্টআপগুলো।

গ্রোকের প্রযুক্তির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি উচ্চগতির বাহ্যিক মেমোরির ওপর নির্ভর করে না। বরং চিপের ভেতরের এসআরএএম মেমোরি ব্যবহার করা হয়। এতে চ্যাটবট বা এআই সেবার প্রতিক্রিয়া দ্রুত পাওয়া যায়। তবে এ পদ্ধতিতে বড় আকারের এআই মডেল চালানোর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বিশ্বব্যাপী চিপ শিল্পে মেমোরি সংকটের সময়ে গ্রোকের এ প্রযুক্তি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহীরা চলে গেলেও গ্রোক জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাইমন এডওয়ার্ডস। একই সঙ্গে গ্রোকের ক্লাউড ব্যবসাও চালু থাকবে। এর আগে কিছু মার্কিন গণমাধ্যমে এনভিডিয়া প্রায় দুইশ কোটি ডলারে গ্রোককে কিনে নিতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষই কোনো মন্তব্য করেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ধরনের চুক্তি বাড়ছে। মাইক্রোসফট, মেটা ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও স্টার্টআপের প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল নিতে লাইসেন্স ও নিয়োগভিত্তিক চুক্তি করেছে। এসব চুক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারিতে থাকলেও এখনো কোনোটি বাতিল হয়নি।

সম্প্রতি ৭৫ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে গ্রোকের বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯০ কোটি ডলারে। এআই বাজার ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণ থেকে ইনফারেন্সের দিকে অগ্রসর হওয়ায়, এনভিডিয়ার এ পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।