প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল গত এক বছরে ছোট দলের দায়িত্বে থাকা এক-তৃতীয়াংশের বেশি ব্যবস্থাপককে ছাঁটাই করেছে। কোম্পানির কার্যকারিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সম্প্রতি সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (পিপল অ্যানালিটিকস অ্যান্ড পারফরম্যান্স) ব্রায়ান ওয়েলে এক বৈঠকে কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখন আমাদের ব্যবস্থাপকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কম। তাদের অধীনে কাজ করা কর্মীর সংখ্যাও কমেছে। এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো জটিলতা কমানো এবং নেতৃত্বের পদগুলোর সংখ্যা সীমিত রাখা।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব ব্যবস্থাপকের অধীনে তিনজনেরও কম কর্মী ছিল, মূলত তাদেরই ছাঁটাই করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গুগল বেশ কয়েক দফায় ছাঁটাই, স্বেচ্ছায় অবসর ও পুনর্গঠন করেছে। এসব প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠকে কর্মীরা চাকরির নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠান সংস্কৃতি ও ভেতরের বাধাসহ নানা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই আগেও বলেছেন, ‘কোম্পানিকে আরো কার্যকর হতে হবে। আমরা চাই না যে প্রতিটি সমস্যার সমাধান শুধু নতুন জনবল নিয়োগের মাধ্যমে করা হোক।’

২০২৩ সালে গুগল প্রায় ৬ শতাংশ বৈশ্বিক কর্মী ছাঁটাই করে। এরপর থেকে কোম্পানি নতুন নিয়োগ কমিয়েছে এবং বর্তমান কর্মীদের আরো বেশি দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করছে। একই সঙ্গে কর্মীদের জন্য স্বেচ্ছায় অবসর বা বাইআউটের সুযোগ দেয়া হয়েছে। গুগলের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা ফিওনা সিসোনি জানান, প্রভাবিত দলের মধ্যে ৩ থেকে ৫ শতাংশ কর্মী এরই মধ্যে বাইআউট নিয়েছেন। তিনি এটিকে ‘সফল উদ্যোগ’ বলে মন্তব্য করেন।

অক্টোবরে অ্যালফাবেটের নতুন অর্থপ্রধান আনাত আশকেনাজি ইঙ্গিত দেন, ব্যয় কমানোর প্রক্রিয়াকে আরো এগিয়ে নেয়া হবে। তবে ধারাবাহিক ছাঁটাই ও পুনর্গঠন অনেক কর্মীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তবুও গুগল কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, ব্যবস্থাপনার স্তর কমানো ও দল পুনর্গঠন করলে প্রতিষ্ঠান আরো গতিশীল হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে থাকতে পারবে।