ওপেনএআইয়ের ব্যবসাকেন্দ্রিক পণ্য ‘চ্যাটজিপিটি এন্টারপ্রাইজ’ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কাজের গতি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে। ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সংস্করণটি ব্যবহার করে কর্মীরা দিনের প্রায় ১ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় করেন বলে দাবি কোম্পানিটির। সম্প্রতি প্রকাশিত ওপেনএআইয়ের প্রথম ‘স্টেট অব এন্টারপ্রাইজ এআই’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি এন্টারপ্রাইজে সাপ্তাহিক বার্তা পাঠানোর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এআই ব্যবহার করে কর্মীরা দিনে ৪০-৬০ মিনিট পর্যন্ত সময় বাঁচাচ্ছেন। আর এআই বেশি ব্যবহারকারীরা এক সপ্তাহে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বাঁচানোর কথা জানিয়েছেন। এছাড়া জরিপে অংশ নেয়া ৭৫ শতাংশের বেশি কর্মী জানিয়েছেন, এআই ব্যবহারে তাদের কাজের গতি বা মান উন্নত হয়েছে।

এআইয়ের ব্যবহার বিভিন্ন খাতে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। ৮৭ শতাংশ আইটি কর্মী দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে পারছেন, ৮৫ শতাংশ মার্কেটিং ও প্রডাক্ট টিম দ্রুত ক্যাম্পেইন চালাতে পারছেন এবং ৭৫ শতাংশ এইচআর পেশাজীবী কর্মীদের মতে, কর্মীর সঙ্গে সংযোগ বা যোগাযোগ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে নতুন এক প্রবণতা হলো ‘ভাইব কোডিং’, যেখানে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত নয় এমন কর্মীরাও এআই ব্যবহার করে কোডসংক্রান্ত কাজ করছেন। এআই ব্যবহার করে ৭৩ শতাংশ প্রকৌশলী দ্রুত কোড ডেলিভারি করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন।

ওপেনএআই আরো জানিয়েছে, ফ্রন্টিয়ার ফার্ম (যেসব প্রতিষ্ঠানে মানুষ ও এআই একসঙ্গে কাজ করে) হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি সময় ও উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সাধারণ ব্যবহারকারীর তুলনায় ছয় গুণ বেশি বার্তা পাঠাচ্ছেন এবং এআইকে নিজেদের কার্যক্রমে আরো গভীরভাবে অন্তর্ভুক্ত করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের আচরণও পরিবর্তন হচ্ছে। চ্যাটজিপিটি প্রজেক্ট ও কাস্টম জিপিটি ব্যবহার গত এক বছরে ১৯ গুণ বেড়েছে। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের গড় এআই রিজনিং টোকেন ব্যবহার ৩২০ গুণ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কেবল সাধারণ প্রশ্নের জন্য নয়, বরং পুনরাবৃত্তিমূলক ও সুনির্দিষ্ট কাজে এআই ব্যবহার করছে।

প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও উৎপাদন খাতগুলো দ্রুত এআই গ্রহণ করছে। পেশাজীবী সেবা, আর্থিক ও প্রযুক্তি খাতগুলো এখনো সর্বাধিক ব্যবহারকারী। ভৌগোলিকভাবে ভারত চ্যাটজিপিটির বড় বাজার হলেও এন্টারপ্রাইজ ক্ষেত্রে ব্যবহার কম দেখা গেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সে ব্যবসায়িক ব্যবহার ১৪০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী ওপেনএআইয়ের এপিআই ব্যবহার ছয় মাসে ৭০ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জাপান সবচেয়ে বেশি করপোরেট গ্রাহক পেয়েছে।

তবে এন্টারপ্রাইজ এআই গ্রহণে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। কেপিএমজি ও এমআইটির গবেষণা অনুযায়ী, অনেক কোম্পানি এআই কেবল পাইলট পর্যায়ে ব্যবহার করছে এবং সঠিকভাবে একীভূত করতে না পারায় অনেক কোম্পানি বিনিয়োগের যথাযথ ফল পাচ্ছে না। ওপেনএআই বলছে, এন্টারপ্রাইজ এআই গ্রহণ ক্রমেই বিস্তৃত ও গভীর হচ্ছে এবং কর্মীরা এআই ব্যবহার করে আরো জটিল কাজ সম্পন্ন করছেন।