ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে এখনো শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং। তবে বহুদিন ধরে প্রতীক্ষিত অ্যাপলের ফোল্ডেবল আইফোন এ বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে মনে করছেন অনেকেই। দাম বেশি হলেও ‘অ্যাপল’ ট্যাগের প্রতি ক্রেতাদের ভরসা আগামী বছর বৈশ্বিক ফোল্ডেবলের বাজারে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসবে। শীর্ষ গবেষণা সংস্থা আইডিসির বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর গিজচায়না।
সংস্থাটি বলছে, ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে স্যামসাংয়ের নেতৃত্ব থাকলেও শিগগিরই এ চিত্র বদলাতে পারে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বাজারের আকার প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হবে বাজারটিতে অ্যাপলের প্রবেশ।
আইডিসির বিশ্লেষকদের মতে, ফোনটির দাম ২ হাজার ৪০০ ডলারের কাছাকাছি হবে (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ টাকা বা তারও বেশি)। কিন্তু আকাশচুম্বী দাম সত্ত্বেও অনেক গ্রাহকই অ্যাপল ব্র্যান্ডের ওপর আস্থা রেখেই বেশি দাম দিতে প্রস্তুত থাকবেন।
বিভিন্ন জরিপ বলছে, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকেই এখনো ফোল্ডেবল কেনার পক্ষে নেই। বেশির ভাগই অপেক্ষা করছেন অ্যাপলের জন্য। তারা এমন একটি নকশা চান, যেটার ওপর ভরসা করা যায়; আর এমন একটি স্ক্রিন, যা দীর্ঘদিন টেকসই হবে।
আইডিসির প্রতিবেদনে ফোল্ডেবল ফোনের বিক্রি ও আয়ের মধ্যে বড় পার্থক্যের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে আসার প্রথম বছরেই আইফোন ফোল্ড বৈশ্বিক ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বিক্রির ২২ শতাংশের বেশি হিস্যা দখল করতে পারে, যা সংখ্যার দিক থেকে বেশ বড়।
তবে আয়ের দিক থেকে প্রভাব আরো বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ফোল্ডের দাম হতে পারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ ডলার। এ উচ্চমূল্যের কারণে আইডিসির ধারণা, ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বাজারে আয়ের ৩৪ শতাংশই অ্যাপলের দখলে চলে যাবে। অর্থাৎ অনেক গ্রাহকই অ্যাপল নামের ওপর এতটাই আস্থা রাখেন যে তারা বাড়তি দাম দিতেও রাজি। তারা শুধু একটি ফোন নয়, বরং ‘গুণগত মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা’ কিনবেন বলে ধারণা করেন।
আইডিসি বলছে, অ্যাপল যখন ফোল্ডেবল ফোনকে ‘ভালো’ বলে ঘোষণা করে, তখন সাধারণ মানুষও তা বিশ্বাস করতে শুরু করে। ফলে বাড়তি এ আগ্রহ পুরো বাজারকেই উপকৃত করবে।
উল্লেখ্য, গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈশ্বিক ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজার সম্প্রসারণ হয়েছে ১৪ শতাংশ। এ সময় বাজার সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিয়েছে বুক-টাইপ মডেল। এর মধ্যে আছে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড সেভেন ও হুয়াওয়ের মেট সিরিজ।










