কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের চাহিদা মেটাতে বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিশাল ডাটা সেন্টার তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কিন্তু উচ্চাভিলাষী এ পরিকল্পনা এখন সাধারণ মানুষের তীব্র বাধার মুখে পড়ছে। মানুষ এখন আর তাদের ঘরবাড়ির পাশে বিশাল যান্ত্রিক স্থাপনাগুলো মেনে নিতে চাইছে না বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে ডাটা সেন্টারগুলো নির্দিষ্ট কিছু টেক জোনে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন বিদ্যুতের সহজ ও দ্রুত সংযোগ পেতে ডেভেলপাররা লোকালয় বা গ্রাম্য এলাকায় এ কেন্দ্রগুলো বানাতে চাইছে। এতে করে সাধারণ মানুষ তাদের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছে।

বিশালাকার ডাটা সেন্টারগুলো কোন এলাকায় স্থাপন করা যাবে, তা নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পৌরসভা ও প্রশাসনিক বোর্ডগুলো। বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারকারী সেন্টারগুলো দেশটির বর্তমান অবকাঠামো বা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সম্প্রতি দেখা গেছে, নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা এলে এখন সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। তারা স্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যেন প্রকল্পটি প্রত্যাখ্যান করা হয়। মানুষের সমর্থন না থাকায় অনেক ডাটা সেন্টারের প্রস্তাব ব্যর্থ হচ্ছে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী, শ্রম ইউনিয়নসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হচ্ছে।

কমার্শিয়াল রিয়েল এস্টেট জায়ান্ট জেএলএলের ডাটা সেন্টার বিভাগ পরিচালনায় সহযোগী অ্যান্ডি সেভেনগ্রোস বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এমন সাত থেকে আটটি চুক্তি নিয়ে কাজ করেছি, যেগুলো ঠেকাতে প্রতিবাদকারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন, শার্ট বিতরণ করেছেন এবং মানুষের উঠোনে সাইনবোর্ডও বসিয়েছেন।’

এআই-বিষয়ক নিরাপত্তা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান টেনএ ল্যাবস জানিয়েছে, বিভিন্ন সম্প্রদায়, নিয়ন্ত্রক ও রাজনৈতিক বাধার কারণে ডাটা সেন্টার নির্মাণে তীব্র ব্যাঘাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শুধু এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ১১টি রাজ্যে মোট ২০টি প্রস্তাব শনাক্ত করেছে কোম্পানিটি। যেগুলো স্থানীয় প্রতিরোধ ও রাজ্য পর্যায়ের বিরোধের কারণে বিলম্বিত হয়েছে।