সর্বশেষ ১২ মাসে ৬২ হাজার ১২ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য বিক্রি করে বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স প্লাটফর্মের তালিকায় শীর্ষে আছে অ্যামাজন। ২০২৩ সাল শেষে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। অনলাইন রিসোর্স ও ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। সংস্থাটি বলছে, অ্যামাজন সম্প্রতি ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্রের। প্রতি ১০ জন ব্যবহারকারীর আটজন ওই দেশের। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অ্যামাজন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩১ কোটি, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় ব্যবহারকারী আছে ২৩ কোটি। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি মানুষ অ্যামাজনের ওয়েবসাইট ভিজিট করেন।
ডিমান্ডসেইজ বলছে, ২০২৩ সালে অ্যামাজনের দৈনিক গড় বিক্রির পরিমাণ ১৬০ কোটি ডলার। ফলে বছর শেষে প্রতিষ্ঠানের আয় হয় ৫৭ কোটি ডলারের বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি।
অ্যামাজনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০ লাখের বেশি বিক্রেতা রয়েছে প্লাটফর্মে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের। এছাড়া অ্যামাজন মার্কেটপ্লেসে ৬০ কোটির বেশি পণ্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে এক কোটির বেশি পণ্য অ্যামাজন নিজেই বিক্রি করে। যদিও প্রতিদিন শত শত নতুন পণ্য যোগ করা হয় এবং এর সঠিক সংখ্যা অনুমান করা কঠিন। কোম্পানিটি বলছে, অ্যামাজন প্রতিদিন ১৬ লাখের বেশি প্যাকেজ ডেলিভারি করে। গড় হিসেবে, অ্যামাজন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২০টি অর্ডার নেয়। এদিকে প্যাকেজ ডেলিভারি দ্রুত ও আরো দক্ষ করতে ‘ভিশন অ্যাসিস্টেড প্যাকেজ রিট্রিভাল’ নামে একটি নতুন সিস্টেম তৈরি করেছে ই-কমার্স জায়ান্টটি। এ প্রযুক্তি ডেলিভারি ট্রাকে প্যাকেজ হাইলাইট করতে সবুজ স্পটলাইট ব্যবহার করবে, ফলে ডেলিভারি কর্মীরা লেবেল না পড়েই দ্রুত সঠিক প্যাকেজটি খুঁজে পাবেন।
ডিমান্ডসেইজের আরেক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সাল শেষে বিশ্বব্যাপী ই-কমার্স বাজারের বিক্রির পরিমাণ ৬ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন বা ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করবে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৭ সালের মধ্যে এ খাতে বিক্রয় প্রতি বছর ৭ দশমিক ৮ হারে বাড়বে। চলতি বছর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ই-কমার্স সাইটের সংখ্যা ২ কোটি ৭২ লাখ। সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬৮৫টি নতুন ই-কমার্স সাইট চালু হয়েছে।
ম্যাকেঞ্জি গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রকাশিত গবেষণা বলছে, আগামী দুই দশকে যে ১৮টি শিল্প বৈশ্বিক অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে তার মধ্যে একটি ই-কমার্স। এসব শিল্প ২০৪০ সালের মধ্যে ২৯-৪৮ ট্রিলিয়ন (২৯-৪৮ লাখ কোটি) ডলার আয় ও ২-৬ ট্রিলিয়ন (২-৬ লাখ কোটি) ডলার মুনাফা অর্জন করতে পারে। ম্যাকেঞ্জির ভাষ্যমতে, ই-কমার্সসহ কয়েকটি শিল্পের মূল্য সংযোজন বা ভ্যালু অ্যাডিশনের গতি বেশি, যা অর্থনীতি, সমাজ বা পরিবেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। এগুলোকে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়। এসব শিল্পের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ গতিশীলতা। দ্রুত বর্ধনশীল এসব শিল্প সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশজুড়ে থাকে এবং কোম্পানির শেয়ার মূল্যও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়ে।










