আজকের যুগে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন, জিমেইল কিংবা ম্যাপ ছাড়া চলা বেশ কঠিন। স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারকারীদের প্রতিদিনের অংশ হয়ে উঠেছে গুগলের এসব পরিষেবা। তবে এগুলো বিনামূল্যে মিলছে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে বিষয়টা তা নয়। একটি ভালো, নির্ভরযোগ্য ই-মেইল পরিষেবা ও ফিচারযুক্ত ভিডিও প্লাটফর্ম তৈরি করতে প্রচুর খরচ করতে হয়। একজন ব্যবহারকারী এ পরিষেবা ফ্রিতে ডাইনলোড করে ব্যবহার করতে পারছেন মানে, তাকে অন্য কোনোভাবে এর মূল্য দিতে হচ্ছে। বলা হয়, ‘আপনি যদি একটি প্রডাক্টের জন্য অর্থ না দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নিজেই সে প্রডাক্ট।’ গুগলের ক্ষেত্রেও তাই। টেক জায়ান্টটি একাধিকবার প্রমাণ করেছে, তারা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পিছপা হয়নি। তবে কিছু সমালোচনা ও নতুন আইনের ফলে গুগল এখন গোপনীয়তা সেটিংসের ওপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়িয়েছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্ল্যাশগিয়ার বলছে, গুগল সাধারণত গোপনীয়তা সেটিংসগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই ব্যবহারকারীকে জানায় না। এর মধ্যে কিছু এমন জায়গায় লুকিয়ে আছে কেউ ধারণাও করতে পারে না। তাই ব্যবহারকারীর সুরক্ষা বিবেচনায় গুগলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয়তা সেটিংস দ্রুত পরিবর্তন করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

টাইমলাইন ফিচার বন্ধ করা

অ্যাপল ম্যাপস সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশ উন্নত হয়েছে। ভ্রমণ বা দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য অনেকেই এটি বেছে নেন। তবে একাধিক জরিপ বলছে, ব্যবহারকারীরা এখনো গুগল ম্যাপকেই বেশি নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল মনে করেন। তবে এ অ্যাপকে অবস্থান অ্যাকসেস করার অনুমতি দিলে এটি ব্যবহারকারীর গতিবিধি ট্র্যাক করে। ট্র্যাকিংটি ‘টাইমলাইন’ ফিচারের মধ্যে থাকে, যা আগে ‘লোকেশন হিস্ট্রি’ নামে পরিচিত ছিল। গুগলের মতে, টাইমলাইন ব্যবহারকারীর অবস্থান ও তিনি কোন পথে যাতায়াত করেন, তা রেকর্ড করে। তবে দুশ্চিন্তার বিষয়, কর্তৃপক্ষও এ তথ্য ব্যবহার করতে পারে, এমনকি কেউ নির্দোষ হলেও। যেমন ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় জর্জ মোলিনা নামে এক ব্যক্তিকে গুগলের লোকেশন ডাটার ভিত্তিতে হত্যা মামলায় ভুলভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গুগল অ্যাকাউন্ট পেজে ঢুকে ‘ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি’তে গিয়ে টাইমলাইন ফিচারটি পজ করা যাবে।

ওয়েব ও অ্যাপ অ্যাকটিভিটি বন্ধ করা

গুগল ডিফল্টভাবে ব্যবহারকারীর ওয়েব ও অ্যাপ অ্যাকটিভিটি ট্র্যাক করে। টেক জায়ান্টটি বলে, এটি ব্যবহারকারীকে আরো ভালো রেকমেন্ডেশন ও দ্রুত সার্চ করতে সহায়তা করে। তবে এতে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি থেকে যায়। ফিচারটি বন্ধ করতে, ‘ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি’ সেকশনে গিয়ে ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাকটিভিটি’তে ক্লিক করে ‘টার্ন অফ’ নির্বাচন করতে হবে। আরো নিরাপত্তার জন্য, ‘টার্ন অফ অ্যান্ড ডিলিট অ্যাকটিভিটি’ ট্যাপ করতে হবে। কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট সার্ভিস বা অ্যাপের অ্যাকটিভিটি মুছে ফেলতে চায়, তবে ‘সি অ্যান্ড ডিলিট অ্যাকটিভিটি’ সেকশনে গেলে অপশনটি পাওয়া যাবে।

অব্যহৃত থার্ড-পার্টি পরিষেবা মুছে ফেলা

গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কোনো ওয়েবসাইটে লগইন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ফেসবুক বা গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে সাইন ইন করার চেয়ে ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অনেক নিরাপদ বলে জানান প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা। অনেকের গুগল অ্যাকাউন্টেই হয়তো এমন অনেক ব্যবহার না করা থার্ড-পার্টি পরিষেবার সাইন ইন জমা হয়ে আছে। একটু সময় নিয়ে এগুলো বের করে, অপ্রয়োজনীয় সাইন ইনগুলো সরিয়ে ফেলা যায়।