খরচ কমানো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই -নির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আবারো কর্মীদের জন্য চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি বা ভলান্টারি এক্সিট প্যাকেজ দিচ্ছে গুগল। এবার এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাজ্যের কর্মীদের। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রেও একই কর্মসূচি চালু রয়েছে বলে বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
গুগলের যুক্তরাজ্যভিত্তিক কর্মীরা গত সপ্তাহে একটি ই-মেইল পেয়েছেন। সেখানে জানানো হয়েছে, চাইলে তারা চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারবেন। তবে কোন বিভাগ ও কতজন এর আওতায় পড়বেন তা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, গুগলের এ ধরনের পুনর্গঠন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আরো দ্রুত বাড়তে পারে।
গুগলের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের কিছু কর্মী স্বেচ্ছায় বিদায় দেয়ার একটি কর্মসূচি শুরু করেছিল। ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে নিতে এখন যুক্তরাজ্যেও এ কর্মসূচি প্রস্তাব করা হচ্ছে।’
গত এক বছরে অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফটসহ বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চাকরি কাটছাঁট করেছে বা স্বেচ্ছায় বিদায় নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। মাইক্রোসফট এআই কোপাইলট পণ্যগুলোর বিভাগ পুনর্গঠনের সময় কিছু কর্মীকে এমন আর্থিক প্যাকেজ দেয়ার প্রস্তাব জানিয়েছিল।
গুগলের ভেতরের অনেকে মনে করছেন, স্বেচ্ছায় বিদায়ের প্রস্তাব সরাসরি ছাঁটাইয়ের তুলনায় বেশি কৌশলী পদ্ধতি। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্ড্রয়েড ও কোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কিছু অংশে এরই মধ্যে এমন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ কর্মীরা জানিয়েছেন, গুগল এসব প্রস্তাবকে শুধু খরচ কমানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না। যারা নতুন এআই-নির্ভর দিকনির্দেশনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবেন না, তাদের বিদায়ের সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
গুগল অবশ্য যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ কমানোর কথা অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘আমরা যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য নিয়োগ অব্যাহত থাকবে।’
গুগল কতজন কর্মীকে এ প্রস্তাব দিয়েছে তা জানায়নি। তবে প্যাকেজের পরিমাণ কর্মীর চাকরির মেয়াদের ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাজ্যে গুগলের কর্মী সংখ্যা সাত হাজারের বেশি, যা তাদের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক অফিস।
ইউটিউবেও গত অক্টোবরে একই ধরনের স্বেচ্ছায় বিদায় কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্লাটফর্মটির প্রধান নির্বাহী নিল মোহন। তিনি কর্মীদের বলেন, ‘এখন ইউটিউবের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং সময়। তবে কেউ যদি নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে চান, তাদের জন্য আমরা এ সুযোগ দিচ্ছি।’
সুন্দর পিচাইয়ের নেতৃত্বে গুগল ব্যবস্থাপনার ধাপ কমিয়ে আরো সরল কাঠামো তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। লক্ষ্য হলো দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া। ছোট ও কার্যকর দলই ভবিষ্যতের এআই-নির্ভর ব্যবসার দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সবচেয়ে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে।










