প্রযুক্তি মহলে সম্প্রতি ‘রিফারবিশড’ শব্দটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্যবহার করা বা নানা কারণে ফিরিয়ে নেয়া কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা, মেরামত ও হালনাগাদের পর রিফারবিশড বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। রিফারবিশড ডিভাইসগুলো সাধারণত নতুনের চেয়ে সস্তা হয়, কিন্তু ভালো মান বজায় থাকে। সেকেন্ড হ্যান্ড ডিভাইস সরাসরি কোনো ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কিনে নেয়া হয়। সেখানে কোনো গ্যারান্টি বা সার্টিফায়েড চেকিং থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, রিফারবিশড পণ্য কেনার আগে শুধু দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নেয়াই ভালো। এসব ডিভাইস কেনার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে—

● ওয়ারেন্টি ও রিটার্ন পলিসি

নতুন ডিভাইসের মতোই রিফারবিশড গ্যাজেট কেনার সময়ও ওয়ারেন্টি ও রিটার্ন পলিসি পরীক্ষা করা জরুরি, বিশেষ করে অনলাইনে কেনার সময়। বিশ্বস্ত বিক্রেতাদের বাইরে সব অনলাইন দোকান ওয়ারেন্টি বা রিটার্ন সুবিধা দেয় না। তাই ‘নতুনের মতো’ লেখা আছে বলেই ডিভাইস কেনা ঠিক সিদ্ধান্ত নয়। এছাড়া ডিভাইসটি শুধু ঠিকমতো চালু হওয়াই যথেষ্ট নয়, এর সব ফিচারও ঠিকভাবে কাজ করা প্রয়োজন। শুধু বিক্রেতার কথায় ভরসা না করে যদি সম্ভব হয় ডিভাইসটি নিজে পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ওয়েবসাইটে যদি ওয়ারেন্টি বা রিটার্ন পলিসি উল্লেখ না থাকে, তাহলে বিক্রেতার কাস্টমার সাপোর্টে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

● বিক্রেতার সুনাম ও রেটিং পরীক্ষা

রিফারবিশড ইলেকট্রনিকস ডিভাইসও বিশ্বাসযোগ্য বিক্রেতা থেকেই কেনার পরামর্শ দেয়া হয়। অনলাইনে খুঁজে দেখে শুধু সস্তা দামের প্রলোভনে ডিভাইস কেনা ঠিক নয়। এতে সহজেই কেউ অনলাইন প্রতারণার শিকার হতে পারে। কারণ স্ক্যামাররা প্রায়ই বেশ আকর্ষণীয় অফার দেয়। তাই ওয়ারেন্টি ও রিটার্ন পলিসি দেখার পাশাপাশি বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতাও যাচাই করা জরুরি।

পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বিক্রেতার সুনাম বিশেষ গুরুত্ব রাখে। কারণ এটি নিশ্চিত করে যে ডিভাইসের মান যাচাই করা হয়েছে, প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে ও ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি বা সম্পূর্ণ রিফান্ড পাওয়া যাবে। যদি বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকে, তবে শুধু পরিচিত ব্র্যান্ড যেমন স্যামসাং, অ্যাপল বা সনি কেনাকাটা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এসব কোম্পানি অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রিফারবিশড ইলেকট্রনিকসও সরাসরি বিক্রি করে।

● ডিভাইসের বয়স যাচাই

পুনর্নির্মিত (রিফারবিশড) ডিভাইস কেনার সময় ডিভাইসের বয়স যাচাই করা জরুরি, বিশেষ করে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও ল্যাপটপের ক্ষেত্রে। কারণ নতুন ফিচার ও নিরাপত্তার জন্য সফটওয়্যার আপডেট দরকার হয়। ডিভাইসের গতি বা পারফরম্যান্স, যেমন অ্যাপ বা গেম চালানোর ক্ষমতা সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে। অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনে সর্বশেষ সফটওয়্যার আপডেট না থাকলে ভাইরাসের ঝুঁকিও বাড়ে।

● নতুন মডেলের সঙ্গে দামের তুলনা

ইলেকট্রনিকস ডিভাইস কেনার সময় সব ধরনের ব্যবহৃত বা পুরনো পণ্য নেয়াটা লাভজনক নয়। বরং সম্প্রতি উন্মোচন হওয়া ডিভাইস খুঁজতে হবে এবং এর সঙ্গে রিফারবিশড পণ্যের দাম তুলনা করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায়, দামে পার্থক্য খুব বেশি থাকে না। তাই নতুন ডিভাইস কেনাই ভালো সিদ্ধান্ত মনে করা হয়। কিছু অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে নতুন ডিভাইস কেনা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে।

বর্তমানে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-ওয়েস্ট) একটি বড় সমস্যায় পরিণত হওয়ায় মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক ডিভাইস পুনর্ব্যবহার ও পুনর্নির্মাণ করছে।

স্ল্যাশ গিয়ার অবলম্বনে