দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্মার্টফোন বাজারে বিক্রি চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সামান্য কমেছে। বাড়তি উৎপাদন খরচ ও প্রতিযোগিতার চাপ এ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রভাব ফেলেছে। ফলে এ অঞ্চলে গত প্রান্তিকে স্মার্টফোনের মোট সরবরাহ আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কমে ২ কোটি ৫৬ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা ও পরামর্শদাতা সংস্থা ওমডিয়ার পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্মার্টফোন বাজারে নেতৃত্ব ধরে রেখেছে স্যামসাং। ৪৬ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রির মাধ্যমে এ সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজার হিস্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মতো উচ্চমূল্যের বাজারে প্রিমিয়াম-ফোকাসড পোর্টফোলিও নিয়ে স্যামসাং অন্যান্য প্রতিযোগীর তুলনায় ভালো অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
চীনা কোম্পানি ট্রান্সশন (টেকনো ইনফিনিক্স ও আইটেল ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন নির্মাতা) ৪৬ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন সরবরাহ করে বাজারের প্রায় ১৮ শতাংশ হিস্যা দখল করে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো মূল্যসংবেদনশীল বাজারে নেতৃত্ব বজায় রেখেছে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে শাওমি। ৪৩ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন সরবরাহ করে বাজারের ১৭ শতাংশ হিস্যা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পোকো সিরিজের নতুন এন্ট্রি-লেভেল মডেলের কারণে কোম্পানিটির স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।
অপো চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। স্মার্টফোন বাজারে ৩৮ লাখ ইউনিট সরবরাহ করা সত্ত্বেও এক বছরের ব্যবধানে সংস্থাটির হিস্যা কমে ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভিভো।
ওমডিয়ার গবেষণা ম্যানেজার লে জুয়ান চিউ বলেন, ‘এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোন বাজার হিস্যা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অপো ও ভিভো এখন পণ্যের মানের দিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে অনর ও শাওমি ইউনিট সংখ্যা বাড়িয়ে বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ধীর বিক্রির পর স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিতীয়ার্ধে পর্যাপ্ত মজুদ নিয়ে বাজারে নামছে। তৃতীয় প্রান্তিকে উন্মোচিত নতুন ডিভাইসগুলোর মজুদ বৃদ্ধির মাধ্যমে আরো আগ্রাসী মজুদ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে কোম্পানিগুলো।’
তবে মেমোরি ও স্টোরেজের দাম বাড়ায় সস্তা ডিভাইসের ওপর চাপ বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে ৬০ শতাংশের বেশি স্মার্টফোনের দাম ২০০ ডলারের নিচে হওয়ায় এর প্রভাব আরো বেশি।’
থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামের মতো প্রধান বাজারগুলোয় স্যামসাং এ১৭ ও এ৭ সিরিজের আগাম উদ্বোধনের কারণে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। মালয়েশিয়ায় শাওমির রেডমি ১৫ সিরিজের ৫জি ভ্যারিয়েন্টের শক্তিশালী বিক্রির কারণে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে ট্রান্সশন মূল্যসংবেদনশীল বাজারে নেতৃত্ব বজায় রাখছে, তবে বাড়তে থাকা উৎপাদন খরচ ভবিষ্যতে কোম্পানিটির জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।










