ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি ব্যবহারের দুই দশকেরও বেশি সময় পরে এসেও এর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরনো রাউটার ও ভুয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হতে যাচ্ছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুতে দেশটিতে ১২ হাজারেরও বেশি সাইবার হামলা হয়েছে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কোয়ালিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভান মিলেনকোভিচ বলেন, ‘ওয়াই-ফাইয়ের জনপ্রিয় হওয়ার পেছনের সুবিধাগুলোই আসলে এর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। ওয়াই-ফাইয়ের নেটওয়ার্ক সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সুবিধাই এটিকে সবচেয়ে অনিরাপদ করে তুলেছে।’
বিশেষজ্ঞরা জানান, জনসমাগমস্থলে রাউটার স্বভাবতই উন্মুক্ত থাকে। ফলে বিশেষ করে বিমানবন্দর ও শপিং মলের মতো অনেক পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে ডাটা এনক্রিপ্ট হয় না। এতে একই নেটওয়ার্কে থাকা ব্যক্তি অন্যের তথ্য পড়তে পারে, যা ‘স্নুপিং’ বা ‘ইভসড্রপিং’ নামে পরিচিত। এ সুযোগে অপরাধীরা ব্যবহারকারীর ডিভাইস ও রাউটারের মাঝখানে নিজেদের কৌশল প্রয়োগ করে পাসওয়ার্ড, আর্থিক তথ্যসহ সংবেদনশীল ডাটা চুরি করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ‘শুধু হ্যাকাররাই নয়, সামান্য প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন লোকজনও এভাবে প্রতারণা করতে পারে। ব্যস্ত এলাকায় তারা প্রায়ই ‘ইভিল টুইন নেটওয়ার্ক’ তৈরি করে, যা আসল নেটওয়ার্কের মতো নাম ব্যবহার করে। উদাহরণ হিসেবে ‘ফ্রি-এয়ারপোর্ট-ওয়াই-ফাই’-এর মতো নাম দিয়ে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলা হয়। আর কোনো ব্যবহারকারী এ নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হলেই হ্যাকাররা তাদের অনলাইন কার্যক্রম নজরদারি করতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিয়ন্ডট্রাস্টের প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোরে হ্যাবার বলেন, ‘ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি উন্নত হলেও পুরনো রাউটারগুলোয় দুর্বলতা থেকে যায়। বছরের পর বছর এগুলো প্রতিস্থাপন না করায় ঝুঁকি আরো বাড়ে। এছাড়া রাউটার যত পুরনো হয়, তত বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়।’
তাই হ্যাবার পরামর্শ দিয়েছেন, ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল কাজের জন্য কখনো পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা উচিত নয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক বা নিজের হটস্পটই নিরাপদ। আর একান্তই ব্যবহার করতে হলে নাম, ই-মেইলসহ ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব তথ্য ফিশিং হামলার জন্য ব্যবহার হতে পারে।
মিলেনকোভিচও একই পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের আগে ফাইল শেয়ারিং বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ডিভাইসের সফটওয়্যারও নিয়মিত আপডেট রাখতে হবে। এতে ঝুঁকি অনেকাংশে কমে।’
একোনিস থ্রেট রিসার্চ ইউনিটের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইরিনা আর্টিওলি বলেন, ‘কেবল ব্যবহারকারী নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়া ওয়াই-ফাই নিরাপত্তাকে সামগ্রিক সাইবার সুরক্ষার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। কর্মীদের সচেতন করতে হবে। তাদের জানা উচিত, অনিরাপদ নেটওয়ার্কে অফিসের ল্যাপটপ সংযোগ করা আর ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করা সমান ঝুঁকি তৈরি করে।’










