চীনে অ্যাপলের পণ্য তৈরির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গত মাসের শুরুর দিকে বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ হামলার ফলে কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের সংবেদনশীল তথ্য ও গোপন ডাটা হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে

সাধারণত পণ্যের যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য অনেক থার্ড-পার্টি কোম্পানির ওপর নির্ভর করে অ্যাপল। তেমনই একটি প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটায় এখন খোদ অ্যাপলের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

ডিজিটাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চীনে অ্যাপলের পণ্য অ্যাসেম্বল করা একটি বড় প্রতিষ্ঠান পরিকল্পিত ও শক্তিশালী সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এ হামলার মাধ্যমে অ্যাপলের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য এবং ডাটা হ্যাকারদের নাগালে চলে যেতে পারে। এ সাইবার হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ বা এর প্রভাব ঠিক কতটা গভীর, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর মধ্যে নতুন আইফোনের বিশেষ কারিগরি নকশা থেকে শুরু করে সেটি তৈরির গোপন পদ্ধতিও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনা কোম্পানিটির দাবি, সাইবার হামলার ফলে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকিটি বর্তমানে সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় কোনো গোপন তথ্য চুরি হয়েছে কিনা কিংবা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে।

ডিজিটাইমসের প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কারখানা বা কোম্পানির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে উল্লেখ্য, চীনে অ্যাপলের পণ্য উৎপাদনের জন্য ফক্সকন, পেগাট্রন ও উইস্ট্রনের মতো অনেক বড় ও স্বনামধন্য অংশীদার কাজ করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সাইবার হামলার পর অ্যাপল সাধারণত নিজস্ব পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি পর্যালোচনা শুরু করে। এ প্রক্রিয়ায় হামলার ভয়াবহতা এবং ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও পরিমাণ মূল্যায়ন করা হয়। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখে অ্যাপল।

অ্যাপলের কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালে একটি শক্তিশালী ভাইরাস আক্রমণের কারণে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির বেশ কয়েকটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলস্বরূপ অ্যাপল ডিভাইসের চিপ তৈরিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।

এছাড়া ২০১২ সালে একদল হ্যাকার অ্যাপলের প্রধান সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফক্সকনের সিস্টেমে ঢুকে বিভিন্ন বিক্রেতার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড ফাঁস করে। এ তথ্যগুলো ব্যবহার করে অপরাধীরা বড় ধরনের জালিয়াতির সুযোগ পেয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সাপ্লাই চেইনের কোনো একটি কারখানায় হামলা হলে তার প্রভাব পুরো অ্যাপল নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে নতুন পণ্য বাজারে ছাড়ার সময় পিছিয়ে যেতে পারে অথবা বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে।

গত মাসের সাইবার হামলার অভিযোগ নিয়ে এখনো অনেক তথ্য অজানা থাকলেও অ্যাপলের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে বারবার লক্ষ্য বানানোর কিছু যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো উৎপাদন ব্যাহত করা; এমন হামলার ফলে কাজ বন্ধ হয়ে গেলে বাজারে অ্যাপল পণ্যের সংকট তৈরি হতে পারে। এছাড়া অ্যাপলের ভবিষ্যৎ পণ্যের পরিকল্পনা সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ করাও হ্যাকারদের অন্যতম উদ্দেশ্য।