ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির গ্রাহক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে আসছে। গত আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্লাটফর্মটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী বেড়েছে কেবল ৫ শতাংশ। একই সময় গুগলের জেমিনি ব্যবহারকারী বেড়েছে ৩০ শতাংশ। বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা সেন্সর টাওয়ারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর টেকক্রাঞ্চ।

গ্রাহক প্রবৃদ্ধি কমলেও ডাউনলোড ও ব্যবহারকারীর দিক থেকে এখনো শীর্ষে চ্যাটজিপিটি। মোবাইলে এআই চ্যাটবট ডাউনলোডে চ্যাটজিপিটির হিস্যা ৫০ শতাংশ। আর মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর হিসাবে এর হিস্যা ৫৫ শতাংশ। তবে গ্রাহক প্রবৃদ্ধির হারের দিক থেকে এরইমধ্যে ওপেনএআইয়ের এ চ্যাটবটকে ছাড়িয়ে গেছে গুগলের জেমিনি।

সেন্সর টাওয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেমিনির দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলে এটি চ্যাটজিপিটির সমান বা কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারে শিগগিরই।

ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি নিজেদের এআই পণ্যগুলো আরো উন্নত করার দিকে মনোযোগ দিতে কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে পারসোনালাইজেশন (ব্যক্তিগতকরণ), বিশ্বাসযোগ্যতা, ইমেজ তৈরির ক্ষমতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে। অনেকের মতে, জেমিনি নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে অল্টম্যান এমন নির্দেশনা দেন। কারণ চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারী বাড়ার গতি ধীর হয়ে আসার সুবিধা নিচ্ছে গুগলের চ্যাটবটটি।

নতুন ইমেজ জেনারেশন মডেল ন্যানো ব্যানানা উন্মোচনের পর আগস্ট থেকে নভেম্বরে জেমিনির বৈশ্বিক মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী বেড়েছে ৩০ শতাংশ। অন্যান্য জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট অ্যাপের সঙ্গে তুলনা করলে জেমিনি পুরো চ্যাটবট বাজারে নিজেদের হিস্যাও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে গত সাত মাসে (মে-নভেম্বর) বৈশ্বিক মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর বাজারে জেমিনির হিস্যা ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে।

মোবাইল অ্যাপ বিশ্লেষণ ও তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা অ্যাপটোপিয়ার নতুন এক বিশ্লেষণ বলছে, চ্যাটজিপিটির মোবাইল অ্যাপের ব্যবহারও সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। কারণ গত এপ্রিলের পর অ্যাপটির এখন ডাউনলোড ও ব্যবহারের গতি খুব একটা বাড়ছে না।

এআই মডেলের বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ও বাড়তি প্রতিযোগিতা এর কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বাজারে এখন জেমিনির মতো অনেক প্রতিযোগীও রয়েছে, যারা দিন দিন আরো উন্নত হচ্ছে।

চ্যাটজিপিটি ২০২২ সালে চালুর পরই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এতে যুক্ত হয় নানা সুবিধা, ফিচার ও উন্নত মডেল। ওপেনএআইয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্লাটফর্মটির সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ কোটিতে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।

তুলনামূলক নতুন দুই চ্যাটবট পারপ্লেক্সিটি ও ক্লডও চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারী সংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ সেন্সর টাওয়ারের তথ্যানুযায়ী, পারপ্লেক্সিটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩৭০ শতাংশ ও ক্লডের ব্যবহারকারীর ১৯০ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া জেমিনি অ্যাপ ব্যবহারকারীদের অ্যাপে কাটানো সময় গত কয়েক মাসে দেড় গুণেরও বেশি বেড়েছে।

নভেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বলছে, গুগলের চ্যাটবট ব্যবহারকারীরা দিনে গড়ে ১১ মিনিট অ্যাপে কাটাচ্ছেন, যা মার্চের তুলনায় ১২০ শতাংশ বেশি।