২০১৯ সালে প্রথম ফোল্ডেবল ফোন বিশ্বের প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কাড়ে। ওই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি স্যামসাং প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ড চালু করে এবং চারদিন পর হুয়াওয়ের মেট এক্স বাজারে আসে। ছোট এ ফোনগুলোর ভাঁজ খুলে বড় ট্যাবলেটের মতো ব্যবহার করা যায়। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজে বহনযোগ্য ও বড় স্ক্রিনের সুবিধা দুটোই পেতে পারেন। পরে অপো, শাওমিসহ অন্যান্য কোম্পানি ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে কাজ করা শুরু করে।
প্রথম প্রজন্মের ফোল্ডেবল ফোনগুলো কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ডের স্ক্রিন ফাটার সমস্যা এবং ভাঁজে ত্রুটি দেখা দেয়। হুয়াওয়ের মেট এক্সও বাঁকানো অংশ নিয়ে সমস্যায় পড়ে। এসব সমস্যা সত্ত্বেও কোম্পানিগুলো প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যায়। আজকের ফোল্ডেবল ফোনগুলো, যেমন স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৬, ফ্লিপ ৬ বা হুয়াওয়ে মেট এক্স ৩, অনেক বেশি মসৃণ ভাঁজ, শক্তিশালী স্ক্রিন এবং পাতলা ডিজাইনসহ বাজারে এসেছে। ভাঁজের মাঝের রেখা, যা আগে একটা বড় সমস্যা ছিল, এখন প্রায় অদৃশ্য। যেমন অপোর ফাইন্ড এন সিরিজও ফোল্ডের ভাঁজ খুব মজবুত এবং ফোল্ডের দাগ খুবই ছোট। এ থেকে বোঝা যায়, ফোল্ডেবল ফোন এখন কেবল পরীক্ষা নয়, বাস্তবেও ব্যবহারযোগ্য।
বাস্তব জীবনে ব্যবহার ও সুবিধা
ফোল্ডেবল ফোন ব্যবহারকারীদের স্টাইল ও সুবিধা দুটোই দেয়। ভাঁজ করে পকেটে বা ব্যাগে সহজে বহন করা যায়, আবার খুললে বড় স্ক্রিনে ভিডিও দেখা, ডকুমেন্ট এডিট করা বা গেম খেলা যায়। কিছু ফোনে মাল্টি-উইন্ডো সুবিধা থাকে, যা একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা দেয়। বিশেষ করে ক্রিয়েটর, গেমার ও ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা কাজে লাগান। ফ্লিপ স্টাইলের ফোন, যেমন স্যামসাং জেড ফ্লিপ ৬, তরুণ ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করে, যেখানে সেলফি বা দ্রুত অ্যাপ ব্যবহার সহজ হয়।
প্রযুক্তিগত অসুবিধা ও আর্থিক সমস্যা
ফোল্ডেবল ফোনের সুবিধা থাকলেও কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। স্মার্টফোনগুলোর দাম যেকোনো সাধারণ ফোনের তুলনায় দ্বিগুণ—প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার, যা অনেকের জন্য ব্যয়বহুল। টেকসই হওয়াটাও একটা বড় চিন্তার বিষয়। কারণ জটিল ভাঁজ, পাতলা স্ক্রিন ও নমনীয় কাচের নতুন প্রযুক্তি, যা সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। ব্যাটারির স্থায়িত্বও সীমিত হতে পারে, বড় স্ক্রিন চালাতে অনেক ফোনে দুটি ব্যাটারি থাকে, যা ফোনকে ভারী করে তোলে।
তার পরও প্রযুক্তি উন্নয়ন থেমে নেই। কোম্পানিগুলো এমন ডিজাইনের ওপর কাজ করছে, যা একাধিকভাবে ভাঁজ বা রোল করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি উৎপাদন খরচ কমে এবং মজবুত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আরো জনপ্রিয় হতে পারে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ফোল্ডেবল ফোন বাজারের ১০ শতাংশ হিস্যা দখলে সক্ষম হবে। —গিজচায়না অবলম্বনে










