ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রে আইফোনে গত শুক্রবার থেকে বন্ধ আছে এপিক গেমসের জনপ্রিয় ভিডিও গেম ফোর্টনাইট। এপিক গেমস জানিয়েছে, অ্যাপল অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী অ্যাপলের আইফোন অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ স্টোরে ফোর্টনাইট গেমটি পাওয়া যাবে না। খবর রয়টার্স।

এপিক গেমস বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো কারণ জানায়নি। তবে অ্যাপল বলেছে, তারা এপিক সুইডেনকে বলেছিল অ্যাপ আপডেট জমা দেয়ার সময় ইউএস সংস্করণ বাদ দিতে। যাতে ইউরোপীয় অঞ্চলে গেমটি প্রভাবিত না হয়। কিন্তু এপিক সে অনুরোধ মানেনি।

অ্যাপলের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা অন্য কোনো প্লাটফর্মে ফোর্টনাইটের লাইভ সংস্করণ সরিয়ে নিইনি।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গেম স্টুডিও এপিক গেমসের পেছনে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম গেম স্টুডিও চীনের টেনসেন্ট। ২০১৭ সালে এ স্টুডিও চালু করা হয়। এর ব্যাটেল রয়্যাল গেমটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

২০২০ সাল থেকে অ্যাপলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে আছে এপিক গেমস। গেম কোম্পানিটির অভিযোগ, অ্যাপল ইন-অ্যাপ পেমেন্টের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন চার্জ করে, যা মার্কিন অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের পরিপন্থি।

ওই বছরই অ্যাপল প্রথমবারের মতো ফোর্টনাইট গেমটিকে নিষিদ্ধ করে। তবে গত বছর বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের চাপের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাপল ফোর্টনাইট গেমটিকে ফিরিয়ে আনে।

এপিক গেমস গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে অভিযোগ জানায়, অ্যাপল আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ফোর্টনাইট ফেরত আনতে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা দাবি করে, অ্যাপলের একচেটিয়া আচরণকে চ্যালেঞ্জ করায় টেক জায়ান্টটি প্রতিশোধ নিচ্ছে।

তবে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এপ্রিলের শুরুতে এপিক গেমসের প্রধান নির্বাহী টিম সুইনি অ্যাপল ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের ‘গ্যাংস্টার’ বলে অভিহিত করেন। একটি ওয়াই কম্বিনেটর ইভেন্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

টিম সুইনি বলেন, ‘অ্যাপল ও গুগল গ্যাংস্টার স্টাইলে ব্যবসা পরিচালনা করে। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বা সুবিধামতো তারা নিয়ম ভাঙে বা তৈরি করে।’

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই এপিক গেমস অ্যাপলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা জিতে নিয়েছে।