চীনের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত আরো পিছিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এক বিবৃতিতে বলছে, ‘চিপ শিল্পে চীনের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও এ বিষয়ে শুল্ক কার্যকর করা হবে ২০২৭ সালের জুনে। তবে প্রয়োজন হলে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিজেদের হাতে রেখেছে ওয়াশিংটন।’ খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, চীনা সেমিকন্ডাক্টরের ওপর কী পরিমাণ শুল্ক আরোপ করা হবে, তা কার্যকরের অন্তত ৩০ দিন আগে ঘোষণা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় প্রায় বছরব্যাপী তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত এসেছে। তদন্তটি শুরু হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পুরনো প্রযুক্তিনির্ভর বা ‘লিগ্যাসি’ চিপ রফতানি খতিয়ে দেখা হয়।

ইউএসটিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ‘আধিপত্য’ বিস্তারের জন্য চীনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই এ বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুক্তিসংগত ও আইনসম্মত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার বিরোধিতা করেছে চীন। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিষয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে বৈশ্বিক শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হবে। এতে কারো লাভ হবে না, বরং ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। চীন বৈধ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে বলেও জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক আরোপ কার্যকর করতে বিলম্ব হওয়ার পেছনে একটি গভীর কৌশলগত হিসাব রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। মূলত চীন কর্তৃক বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অপরিহার্য ‘দুষ্প্রাপ্য খনিজ’ রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপ করার ফলেই ওয়াশিংটন এ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্বে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি কালো তালিকাভুক্ত বেশকিছু চীনা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন প্রযুক্তি রফতানির ওপর প্রস্তাবিত নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বাজারে শীর্ষ কোম্পানি এনভিডিয়ার চিপ চীনে পাঠানোর বিষয়টিও নতুন করে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ট্রাম্প প্রাশাসন।