সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো মনে হলেও এখন বাস্তবে মিটিংয়ে যোগ দিচ্ছেন না অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও। তাদের জায়গা নিচ্ছে নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যাভাটার। সম্প্রতি ক্লারনা ও জুমের দুই সিইও তাদের কোম্পানির আয়ের হিসাব জানাতে নিজেরা হাজির হননি। বরং পাঠিয়েছেন তাদের ডিজিটাল সংস্করণ। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

ক্লারনার সহপ্রতিষ্ঠাতা সেবাস্তিয়ান সিমিয়াতকোস্কির অ্যাভাটার ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের আয়ের হিসাব উপস্থাপন করেছে মাত্র ৮৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে। যেখানে সে বলে, ‘এটি আমি (সেবাস্তিয়ান), বা বলা ভালো, আমার এআই অ্যাভাটার।’

এদিকে জুমের সিইও এরিক ইউয়ানও ব্যবহার করেন প্লাটফর্মের নিজস্ব তৈরি এআই অ্যাভাটার, যা প্রতিষ্ঠানের আয়ের বিবরণ দেয় পুরো প্রেজেন্টেশনে। তবে ইউয়ান শেষ পর্যন্ত লাইভ সেশনে অংশ নিয়ে জানান, নিজের ডিজিটাল সত্তাকে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। ভবিষ্যতেও তিনি এটি ব্যবহার করবেন।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিবর্তন শুধু চমকপ্রদ নয়, বরং মিটিং ও উপস্থাপনায় মানুষকে সরিয়ে এআই কতটা জায়গা নিচ্ছে তার ইঙ্গিত।

এআই প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে আগেই খোলাখুলি কথা বলেছে ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ক্লারনা।

কোম্পানিটির সিইও সম্প্রতি বলেন, ‘এআই ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানটি আংশিকভাবে কর্মীসংখ্যা কমিয়েছে। তবে কিছু পরিস্থিতিতে এখনো “মানুষের স্পর্শ” অনিবার্য। এ ঘাটতি পূরণে ক্লারনা এখন নতুন হাইব্রিড মডেল পরীক্ষা করছে।’

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা আরো উন্নত ডিজিটাল সহকারী তৈরির পরিকল্পনায় অটল। এ সহকারী ব্যবহারকারীদের ভালো বীমা চুক্তি খুঁজে দেয়া, সুদের হার নিয়ে দরকষাকষি করা কিংবা আর্থিক সিদ্ধান্তকে আরো দক্ষ করে তুলতে সাহায্য করতে পারবে।

জুমের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগিয়েছে। সিইও এরিক ইউয়ান আগেই বলেছিলেন এক ভবিষ্যতের কথা, যেখানে ‘ডিজিটাল টুইন’ বা এআই-চালিত প্রতিরূপ কর্মক্ষেত্রে মানুষের হয়ে কাজ করবে।

তবে জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগের বিষয়টি যখন সিইওরা অ্যালগরিদমের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন, তখন প্রশ্ন উঠছে—সংখ্যা বিশ্লেষণ আর কণ্ঠস্বর অনুকরণে পারদর্শী হলেও এআই আদৌ বিশ্বাস অর্জন করতে বা বাস্তব সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে কিনা।

বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বলছেন, যত নিখুঁতই হোক না কেন, এখনো কোনো এআই অ্যাভাটার মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে যোগাযোগের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি।