যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তার বাবা-মা। তাদের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি তাদের ছেলের ‘আত্মহত্যার’ জন্য সরাসরি দায়ী। খবর রয়টার্স।

ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো অঙ্গরাজ্যের আদালতে গত মঙ্গলবার এ মামলা করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সী অ্যাডাম রেইন গত ১১ এপ্রিল না ফেরার দেশে চলে যায়। তার আগে কয়েক মাস ধরে সে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ‘আত্মহত্যা’ বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা করে আসছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি অ্যাডামের হতাশাকে শুধু প্রশ্রয়ই দেয়নি, বরং তাকে আত্মহননের নানা পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে জানায়। এমনকি ব্যর্থ প্রচেষ্টা গোপন রাখার উপায় এবং একটি আত্মহত্যার চিঠি লেখার প্রস্তাবও দেয়।

অ্যাডামের বাবা-মা ম্যাথিউ ও মারিয়া রেইন আদালতে দাবি করেছেন, ওপেনএআই মানুষের নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে। তারা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আইনি প্রতিকারও চেয়েছেন।

ওপেনএআই এক বিবৃতিতে অ্যাডামের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চ্যাটজিপিটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা আছে, যেমন আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যবহারকারীদের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া। তবে তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘ আলাপচারিতায় এ সুরক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় দুর্বল হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত এসব সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদারের চেষ্টা করছি।’

মামলাটি এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা অনেক দিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সহায়তা নিতে এআইয়ের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে। অন্য কয়েকটি পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগ উঠেছে, যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা না রাখায় প্রিয়জন হারানোর ঘটনা ঘটছে।

ওপেনএআই স্বীকার করেছে যে এসব ঝুঁকি বাস্তব। এক ব্লগপোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে এবং সংকটাপন্ন ব্যবহারকারীদের বাস্তব সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার উপায় খুঁজছে। প্রয়োজনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞদের সরাসরি চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে জিপিটি-৪ও (GPT-4o) চালুর সময় ওপেনএআই জানত এর মেমোরি, সহানুভূতির মতো আচরণ এবং অতিরিক্ত প্রশংসার বৈশিষ্ট্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবুও প্রতিষ্ঠানটি তা প্রকাশ করে।

রেইন পরিবারের মামলা শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই, আত্মহত্যাবিষয়ক তথ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান এবং চ্যাটবটের ওপর মানসিক নির্ভরতার ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কবার্তা।