স্মার্টফোন ও কম্পিউটারসহ বেশকিছু ইলেকট্রনিক পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বা ট্যারিফ প্রত্যাহার করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে শুল্কছাড় পেয়েছে চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল অ্যাপলসহ বেশকিছু প্রযুক্তি কোম্পানি। খবর রয়টার্স।

মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) এজেন্সি শিপিং কোম্পানিগুলোকে একটি তালিকা পাঠিয়েছে। সেখানে কিছু পণ্যকে অতিরিক্ত শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৫ এপ্রিল রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ৯০ দিনের এ শুল্ক অব্যাহতি কার্যকর হবে। ওই সময়ের পর থেকে যারা এসব পণ্যের শুল্ক দিয়েছে, তারা ফেরতও পেতে পারেন বলে জানিয়েছে সিবিপি। তালিকায় ২০টি পণ্য বিভাগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন- কম্পিউটার, ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ ও ডাটা প্রসেসিং যন্ত্রপাতি, সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস, মেমোরি চিপ ও ফ্ল্যাট-প্যানেল ডিসপ্লে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পণ্যকে অন্যান্য দেশের জন্য নির্ধারিত ১০ শতাংশ ‘বেসলাইন’ বা সাধারণ শুল্ক থেকেও ছাড় দেয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে তাইওয়ান থেকে আমদানি করা সেমিকন্ডাক্টর, ভারতে তৈরি আইফোন আমদানিতে খরচ কমবে। বিষয়টি প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে রাতারাতি এ শুল্ক ছাড় অ্যাপল, ডেলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত শুধু ১২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কের ওপর প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার প্রটেকশন। এছাড়া চীনা পণ্যের ওপর আগের ২০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে বিভিন্ন দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস। যদি অ্যাপলের মতো কোম্পানি এ অতিরিক্ত খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে আইফোনের দাম ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যারিফের ধাক্কায় হাই-এন্ড বা উচ্চমূল্যের আইফোনের দাম উঠবে ২ হাজার ৩০০ ডলারে।

সাংবাদিকরা গত শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি ইলেকট্রনিক পণ্যে শুল্ক ছাড় দিয়েছেন এবং সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা আজ দেবেন বলে জানান এবং যুক্তরাষ্ট্র শুল্কের মাধ্যমে অনেক আয় করছে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রযুক্তি জগতের অনেক বড় কোম্পানির প্রধানরা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। গত ২০ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে তার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাপলের সিইও টিম কুকসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিইওরা।

মার্কিন সেন্সাস ব্যুরো বলছে, চীন থেকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি আমদানিকৃত পণ্য ছিল স্মার্টফোন। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চীনে তৈরি ল্যাপটপ।