চলতি বছরের শুরুর দিকে ধনকুবের ইলোন মাস্ক চ্যাটজিপিটির প্রতিষ্ঠাতা ওপেনএআই কিনতে ৯৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৭৪০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে প্রস্তাবে তিনি মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গকেও অংশ নিতে আহ্বান করেছিলেন। মাস্ক ও ওপেনএআইয়ের চলমান মামলার আইনি নথিতে সম্প্রতি এসব তথ্য প্রকাশ পায়। খবর সিএনবিসি।
নথিতে দেখা গেছে, ওপেনএআই কিনতে একটি বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন ইলোন মাস্ক। এজন্য তিনি একটি প্রস্তাবপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট বা এলওআই) পাঠান। ওই প্রক্রিয়ায় যাদের সঙ্গে মাস্ক যোগাযোগ করেছিলেন, তাদের তালিকায় মার্ক জাকারবার্গের নামও ছিল। অবশ্য সে এলওআইতে মেটা কিংবা মার্ক জাকারবার্গ স্বাক্ষর করেননি।
মাস্ক ও ওপেনএআইয়ের মামলাটি শুরু হয় গত বছর। মামলা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে স্যাম অ্যাল্টম্যানসহ কয়েকজনকে নিয়ে মাস্ক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ফেডারেল কোর্টের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওপেনএআই কেনার প্রস্তাব দেন মাস্ক। প্রধান নির্বাহী স্যাম অ্যাল্টম্যান ওপেনএআইকে অলাভজনক থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চেষ্টা করছে বলে মাস্ক ক্ষুব্ধ ছিলেন। একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও মাইক্রোসফটের বিপুল অর্থায়নে এআই খাতে ওপেনএআই শীর্ষে ওঠার পর থেকে অ্যাল্টম্যান ও মাস্ক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছেন বলে ধারণা অনেকের।
মাস্ক ২০২৩ সালে তার নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেন এবং ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, ওপেনএআই তাদের আগের চুক্তি ভেঙেছে। সেই সঙ্গে তিনি চাইছিলেন ওপেনএআই লাভজনক কোম্পানি হিসেবে রূপান্তরিত না হোক।
পাল্টা দাবিতে ওপেনএআই অভিযোগ করেছিল, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করে প্রতিষ্ঠানটিকে হেনস্তা করেছেন মাস্ক।
সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই অধিগ্রহণের বিষয়ে মেটার একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এছাড়া মামলায় মাস্কের আইনজীবী মার্ক টোবেরফও মন্তব্যের জন্য অনুরোধে কোনো উত্তর দেননি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন বড় কোম্পানিগুলো এআই বাজারে এগিয়ে থাকার জন্য বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে মেটা। শীর্ষ এআই গবেষকদের ১০ কোটি ডলার পর্যন্ত বেতন দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি ওপেনএআইয়ের কর্মীদেরও দলে টানছেন সিইও মার্ক।










