প্রযুক্তি জগতের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি এখন ‘ডাটা সেন্টার’। তবে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা বিশাল এআই ডাটা সেন্টারগুলো সচল রাখা হচ্ছে কোনো ধরনের কঠোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়াই। অবকাঠামোগুলোর জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস টারবাইনের ব্যবহার সরাসরি জলবায়ুর জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মানুষের অগোচরেই পৃথিবীর বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে। এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের ফলে পরিবেশের ওপর যে ক্ষতি বা চাপ পড়ছে, তা এখনো সঠিকভাবে পরিমাপ করা কঠিন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেম্ফিস শহরে একটি বিশাল ডাটা সেন্টার তৈরি করেছে ইলোন মাস্কের কোম্পানি। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই সুপারকম্পিউটার পরিচালনা করে। সেন্টারটি চালানোর জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে, যা গ্যাসচালিত টারবাইন থেকে তৈরি করা হয়।
বিশেষজ্ঞ শারন উইলসন সেখানে একটি থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা (যা তাপ ও গ্যাস শনাক্ত করতে পারে) নিয়ে যান। খালি চোখে ধোঁয়া বা দূষণ দেখা না গেলেও ওই ক্যামেরায় দেখা গেছে, টারবাইনগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া নির্গত হয়ে আকাশে মিশছে। যেহেতু কেন্দ্রটির ওপর কোনো কঠোর ‘দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ আইন নেই, তাই এটি পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শারন উইলসন একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ। তিনি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তেলের খনি ও গ্যাস কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস পর্যবেক্ষণ করছেন।
উইলসন বলেন, ‘একটি বিশাল পাওয়ার প্লান্টের সমপরিমাণ দূষণ ছড়াচ্ছে ইলোন মাস্কের এক্সএআই কোম্পানির কলোসাস ডাটা সেন্টারটি। এখান থেকে যে বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে, তা কল্পনা করাও কঠিন।’
উল্লেখ্য, মেম্ফিসের বিশাল ও শক্তিশালী ডাটা সেন্টারটি মূলত তৈরিই করা হয়েছে একটি নির্দিষ্ট চ্যাটবটকে চালানোর জন্য।
প্রতিবেদন বলা হয়েছে, একই সপ্তাহে ডাটা সেন্টারটির মূল পণ্য এআই চ্যাটবট গ্রোক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবহারকারীরা অনেকে অভিযোগ করেন, একেবারে ভিন্ন ও সাধারণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলেও গ্রোক দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা’ হচ্ছে বলে তথ্য দেয়। এছাড়া হিটলারের প্রশংসা করা, চরম ডানপন্থী মতাদর্শ প্রচার ও ভুয়া দাবির মতো আচরণ করেছে গ্রোক।
পরিবেশবাদী সংগঠন অয়েলফিল্ড উইটনেসের পরিচালক শ্যারন উইলসন এ বিষয় বলেন, ‘নাৎসি পোশাক পরা মিকি মাউসের মতো অর্থহীন ছবি বানানোর জন্য এভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে পরিবেশ ধ্বংস করাটা একটা “ভয়াবহ অপচয়”।’
উইলসনের মতো অনেক বিজ্ঞানীই এখন এআইয়ের এ জয়যাত্রা নিয়ে চিন্তিত। তারা মনে করছেন, প্রযুক্তিটি দুভাবে পৃথিবীকে দূষিত করছে। এক. প্রাকৃতিক দূষণ, যেমন ডাটা সেন্টারগুলো থেকে প্রচুর কার্বন নির্গত হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে করে পৃথিবীকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উত্তপ্ত হওয়া থেকে বাঁচানোর যে লড়াই চলছে, তা আরো কঠিন হয়ে পড়বে। দুই. ডিজিটাল দূষণ, যেমন ইন্টারনেটে এআইয়ের মাধ্যমে ভুল তথ্য থেকে শুরু করে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তৈরি করা ডিপফেক ভিডিওর মতো বিপজ্জনক কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ডাটা সেন্টারগুলো মাত্র ১ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। কিন্তু এআইয়ের কারণে এটি দ্রুত বাড়ছে।










