কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতায় আরো এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জেনারেটিভ এআই (জেন এআই) প্রযুক্তির প্রতিষ্ঠান মিডজার্নির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে মেটা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক বার্তায় এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেটার চিফ এআই অফিসার আলেক্সান্দর ওয়াং। খবর রয়টার্স ও টেকক্রাঞ্চ।
চুক্তি অনুযায়ী, মিডজার্নির নান্দনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি পাবে মার্ক জাকারবার্গের সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানটি। ফলে মেটার ভবিষ্যৎ এআই মডেল ও বিভিন্ন পণ্যে দেখা যাবে মিডজার্নির উন্নত প্রযুক্তি।
এক্সের বার্তায় ওয়াং লিখেছেন, ‘আমরা মিডজার্নি নিয়ে ভীষণ মুগ্ধ। সেরা পণ্য তৈরি করতে আমরা সেরা প্রতিভা, শক্তিশালী কম্পিউটার রোডম্যাপ ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছি।’
এআইয়ের বাজারে প্রতিযোগিতা এখন তীব্র। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ও গুগলের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলতে চায় মেটা। তাই নিজেদের পণ্যের ভিজ্যুয়াল মান উন্নত করতে মিডজার্নির সঙ্গে এ চুক্তি করেছে সংস্থাটি। এ প্রযুক্তি যুক্ত হলে মেটা নতুন ফিচার চালু করতে পারবে। কনটেন্ট তৈরির খরচ কমবে আর বিজ্ঞাপন হবে আরো আকর্ষণীয়। বাড়বে ব্যবহারকারীর অংশগ্রহণও।
মেটা সম্প্রতি তাদের এআই কার্যক্রম নতুনভাবে সাজিয়েছে। সব কার্যক্রম এখন সুপার ইন্টিলিজেন্স ল্যাবের নিয়ন্ত্রণে চলছে। তাদের সর্বশেষ ওপেন সোর্স মডেল লামা ৪ খুব বেশি সাড়া পায়নি। পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে মিডজার্নির সঙ্গে অংশীদারত্ব মেটার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ অংশীদারত্ব মেটাকে ওপেনএআইয়ের সোরা, ব্ল্যাক ফরেস্ট ল্যাবের ফ্লাক্স ও গুগলের ভেওয়ের মতো শীর্ষ এআই ইমেজ এবং ভিডিও মডেলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাহায্য করবে। এরই মধ্যে মেটা নিজের তৈরি ইমেজ জেনারেশন টুল ইমাজিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জারে যুক্ত করেছে। এছাড়া মেটার ভিডিও টুল মুভি জেন ব্যবহারকারীদের টেক্সট প্রম্পট থেকে ভিডিও বানাতে দিচ্ছে।
এটি মেটার সাম্প্রতিক বড় বিনিয়োগগুলোরই ধারাবাহিকতা। চলতি বছর শুরুর দিকে শীর্ষ এআই গবেষকদের দলে টানতে মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন সিইও মার্ক জাকারবার্গ। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি স্কেল এআই-এ ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। অধিগ্রহণ করেছে ভয়েস প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ প্লে এআই। এছাড়া আরো বেশকিছু শীর্ষ এআই ল্যাবের সঙ্গে অধিগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে।










