কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি) বাজারে। মেমোরি সেমিকন্ডাক্টরের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জাপানসহ বিভিন্ন দেশের পিসি নির্মাতারা পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে ভোক্তাদের জন্য পিসি কেনা আরো ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিক্কেই এশিয়া।

জাপানের টোকিওভিত্তিক পিসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাউস কম্পিউটার জানিয়েছে, মেমোরি চিপের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে কোম্পানিটি পিসির দাম বাড়াবে। এ ঘোষণার পর চলতি বছরের ২৩ ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। দাম বাড়ার আগেই পিসি কিনতে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্ডার এসেছে বলে জানিয়েছে মাউস কম্পিউটার। তবে দাম কত শতাংশ বাড়বে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

জাপানের আরেক বড় পিসি নির্মাতা ও শার্পের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডাইনাবুক জানিয়েছে, কম্পিউটারের প্রধান মেমোরি ডিআরএএমের দাম এতটাই বেড়েছে যে কোম্পানিটির পক্ষে তা আর সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটিও পিসির দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে জাপানের পিসি বাজারে ডাইনাবুকের অংশদারত্ব ছিল প্রায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

একটি পিসি তৈরির মোট খরচের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে ডিআরএএম ও সলিড স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি) থেকে। জাপানি নির্মাতাদের ক্ষেত্রে ইয়েনের দরপতন যন্ত্রাংশের আমদানি খরচ আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

গত এক বছরে মেমোরি চিপের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ডাবল ডাটা রেট-৪ (ডিডিআর৪) প্রযুক্তির ৮ গিগাবাইট ডিআরএএমের স্পট মূল্য বর্তমানে প্রায় ১৪ দশমিক ১০ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় নয় গুণ বেশি। বড় অর্ডারের ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক দামও আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্বের ডিআরএএম বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন টেকনোলজি। এসব প্রতিষ্ঠান এখন বেশি লাভজনক এআই সার্ভারের জন্য ব্যবহৃত হাই-ব্যান্ডউইডথ মেমোরি উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। এতে সাধারণ পিসির জন্য মেমোরি সরবরাহ কমে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে এআই সার্ভারের জন্য এসএসডির চাহিদা বাড়ায় ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরির দামও গত কয়েক মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বড় বড় নির্মাতা এখন ডাটা সেন্টার বাজারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্বের বড় পিসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেনোভো, এইচপি ও ডেল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাভ ধরে রাখতে পিসির দাম ১০-২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। শুধু পিসি নয়, এআই প্রযুক্তির উত্থানের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে স্মার্টফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।