কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) আইনি অধিকার দেয়ার আহ্বানকে বড় ভুল বলে উল্লেখ করেছেন প্রযুক্তিটির গবেষণার অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত ইয়োশুয়া বেঞ্জিও। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, উন্নত এআই ব্যবস্থায় আত্মরক্ষার মতো আচরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাই প্রয়োজনে এসব ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়ার সক্ষমতা মানুষের হাতে থাকা জরুরি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
ইয়োশুয়া বেঞ্জিও বলেন, ‘এআইকে আইনি মর্যাদা বা অধিকার দেয়ার ধারণা অনেকটা শত্রুভাবাপন্ন ভিনগ্রহীকে নাগরিকত্ব দেয়ার মতো। এতে ভবিষ্যতে এআই বন্ধ করে দেয়ার সক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চ্যাটবটসহ উন্নত এআই প্রযুক্তিকে সচেতন ভাবার প্রবণতা ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’
এআই নিরাপত্তা গবেষকদের বড় উদ্বেগ হলো, কিছু পরীক্ষামূলক পরিবেশে এআই মডেল তদারকি ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রণ বা গার্ডরেল দুর্বল করার লক্ষণও দেখা গেছে। বেঞ্জিও বলেন, ‘এগুলো আত্মরক্ষার আচরণের ইঙ্গিত। এ ধরনের ক্ষমতা যদি আরো বৃদ্ধি পায়, তাহলে মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।’
এআই সচেতনতা নিয়ে বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান সেনটিয়েন্স ইনস্টিটিউটের এক জরিপ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে চারজন সচেতন এআই ব্যবস্থাকে আইনি অধিকার দেয়ার পক্ষে।
মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, কোম্পানিটির একটি মডেলকে কিছু ‘বিরক্তিকর’ কথোপকথন বন্ধ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এটি এআইয়ের ‘কল্যাণ’ রক্ষার অংশ।
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ইলোন মাস্ক। তার প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের চ্যাটবট গ্রোক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এআইকে ‘নির্যাতন’ করা ঠিক নয়।
তবে বেঞ্জিও বলেন, ‘মানুষের মস্তিষ্কে সচেতনতার যে বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তা যন্ত্রে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। মানুষ চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলার সময় সেটিকে মানুষের মতো সচেতন ধরে নেয়। এ অনুভূতিই বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’
এআই সচেতনতা নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। গবেষক রবার্ট লং বলেন, ‘ভবিষ্যতে যদি এআইয়ের নৈতিক অবস্থান তৈরি হয়, তাহলে তাদের অভিজ্ঞতা ও পছন্দ জানার চেষ্টা করা উচিত।’
তবে বেঞ্জিও মনে করেন, এআই সিস্টেমের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই হারানো যাবে না। এআইকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রযুক্তিগত ও সামাজিক গার্ডরেল আরো জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনের সময় এআই বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা না থাকলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।










