দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের জন্য আইওএস প্লাটফর্মে নতুন অ্যাকসেসিবিলিটি ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। গ্লোবাল অ্যাকসেসিবিলিটি অ্যাওয়ারনেস ডের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার প্রতিষ্ঠানটি এ ঘোষণা দেয়। চলতি বছরের শেষ দিকে ফিচারগুলো চালু হবে বলে জানিয়েছে তারা। অ্যাপল বলছে, এসব ফিচার ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে ও সরাসরি ডিভাইসেই সংযুক্ত থাকবে। ফলে অ্যাকসেসিবিলিটি ফিচার পেতে আলাদা কোনো খরচ করতে হবে না। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

নতুন ফিচারের মধ্যে থাকবে লাইভ ক্যাপশন, মাত্র ১০টি বাক্য দিয়ে ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বর তৈরি, উন্নত ব্রেইল সুবিধা ও অ্যাপ স্টোরে ‘অ্যাকসেসিবিলিটি লেবেল’। এ লেবেলের মাধ্যমে অ্যাপ ডেভেলপারদের জানাতে হবে—তাদের অ্যাপে কোন কোন অ্যাকসেসিবিলিটি সুবিধা রয়েছে। যেমন ভয়েসওভার, ভয়েস কন্ট্রোল বা বড় আকারের লেখা। অ্যাপল মনে করছে, এতে ডেভেলপাররা ভবিষ্যতে আরো বেশি সহজপ্রাপ্য ও সবার জন্য উপযোগী ফিচার যোগ করতে উৎসাহী হবেন।

অ্যাপলের ম্যাগনিফায়ার অ্যাপ এবার ম্যাকেও ব্যবহার করা যাবে। ব্যবহারকারীরা আইফোন বা ম্যাকের ক্যামেরা দিয়ে প্রজেকশন বোর্ড বা পর্দা জুম করে সহজে দেখতে পারবেন। ফিচারটিতে উজ্জ্বলতা, কনট্রাস্ট ও রঙ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা থাকবে, যা কম দেখেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।

ব্রেইল ব্যবহারকারীদের জন্য থাকবে নতুনভাবে নোট নেয়ার সুবিধা এবং গণিত ও বিজ্ঞানের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ‘নেমেথ ব্রেইল’-এর সমর্থন। অ্যাপল জানিয়েছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের কথা ভেবেই এ ফিচারগুলো যুক্ত করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বর তৈরির নতুন ফিচারটি আগের তুলনায় অনেক সহজ ও উন্নত। আগে যেখানে ১৫০টি বাক্য রেকর্ড করতে হতো, এখন মাত্র ১০টি বাক্যেই কণ্ঠস্বর তৈরি করা সম্ভব হবে। তৈরি করা এ কণ্ঠস্বর ডিভাইসেই সংরক্ষিত থাকবে। তবে চাইলে এনক্রিপ্টেডভাবে আইক্লাউডেও ব্যাকআপ রাখা যাবে।

অ্যাপলের গ্লোবাল অ্যাকসেসিবিলিটি নীতির প্রধান সারাহ হেরলিঞ্জার বলেন, ‘সব মানুষের অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। তাই আমরা এমন ফিচার তৈরি করছি, যা এক বা একাধিক প্রতিবন্ধকতা থাকা ব্যবহারকারীদের জন্য সহায়ক হবে—এগুলো থাকবে একেবারে বিনামূল্যে।’

অ্যাপলের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ভিশন অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা।