অস্ট্রেলিয়ায় শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর মেটা পাঁচ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলেছে। দেশটির সরকার শিশুদের অনলাইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে এ নিয়ম চালু করেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

মেটা জানিয়েছে, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে ইনস্টাগ্রাম থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৪৯টি, ফেসবুক থেকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি এবং থ্রেডস থেকে ৪৯ হাজার ৯১৬টি একাউন্ট সরানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর এটিই কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেয়া প্রথম বিস্তারিত তথ্য।

গত অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটের এক শুনানিতে জানানো হয়েছিল, তখন দেশটিতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় তিন লাখ ইনস্টাগ্রাম এবং দেড় লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী ছিল। ধারণা করা হয়, এর বাইরেও ১৩ বছরের নিচে অনেক শিশু ভুয়া জন্মতারিখ বা অভিভাবকের সহায়তায় অ্যাকাউন্ট খুলেছিল, যদিও মেটার নিয়মে তা নিষিদ্ধ।

নিষেধাজ্ঞা ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হলেও মেটা তার এক সপ্তাহ আগেই কমবয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও নতুন একাউন্ট তৈরি বন্ধ করে দেয়। নভেম্বরের মাঝামাঝি তাদের নোটিশ পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ডাউনলোড ও ভবিষ্যতে হিসাব ফেরত পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়।

বয়স যাচাইয়ের জন্য মেটা যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছে, যেখানে ভিডিও সেলফি বা সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছে। মেটা বলছে, অনলাইনে বয়স যাচাই জটিল হওয়ায় তারা অ্যাপ স্টোরগুলোকে বাধ্যতামূলক বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, তারা মেটার কাছ থেকে প্রতিবেদন পেয়েছে। ডিসেম্বরে করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এ নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করলেও ১৬ বছরের নিচে ৭০ শতাংশ শিশুই এতে অসন্তুষ্ট।

এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও টুইচসহ দশটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। ফলে অনেক শিশু বিকল্প প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে।

এদিকে, ডিসেম্বরে একটি নতুন লাইফস্টাইল অ্যাপ দেশটির অ্যাপ বাজারে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজনে নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মের তালিকা পর্যালোচনা করে আরো বাড়ানো হবে।