কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আই) নিয়ে উত্তেজনা এখনো কোনো বুদ্বুদ তৈরি করেনি বলে দাবি প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বলছে, খাতটিতে এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপগুলোর মূল্যায়ন অত্যধিক ও অনেক প্রকল্প প্রাথমিক পরীক্ষার পর ব্যর্থ হচ্ছে। তবু এইচপিই, এএমডি ও অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা মনে করছেন, এআইয়ের প্রবৃদ্ধির ধারা বাস্তব ও স্থায়ী। খবর দ্য রেজিস্টার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান এআই বাজারে কোনো কল্পনাপ্রসূত বুদ্বুদ নয়। এটি একটি বৃহৎ শিল্প সম্প্রসারণ, যা বাস্তব অর্থ ও সতর্কভাবে করা বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে।
প্রযুক্তি কোম্পানি এইচপিইর নেটওয়ার্কিং বিভাগের সভাপতি ও জেনারেল ম্যানেজার রামি রহিম জানান, এআইয়ের চাহিদা শিগগিরই কমবে না। যদিও প্রযুক্তি খাতে আগেও সাময়িক পতন ঘটেছে। তবে বর্তমানে তিনি কোনো ধীরগতি বা বাজার সংকোচনের লক্ষণ দেখছেন না। বর্তমান প্রকল্প, গ্রাহকের সঙ্গে কথোপকথন ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে এআই প্রযুক্তির বাজার এখনো শক্তিশালী মনে করা হচ্ছে।
বাজারের এআইয়ের উত্থানজনিত বাবলের আশঙ্কাকে নাকচ করে দিয়েছে বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসও। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এআই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বর্তমান বিনিয়োগের তুলনায় অনেক বড়।
এআই দ্রুত উত্থান নিয়ে সম্ভাবনার সঙ্গে সম্প্রতি উদ্বেগও বাড়তে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির রাজধানীখ্যাত সিলিকন ভ্যালিতে।
এর আগে বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা সতর্ক করেছিলেন, এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ ও মূল্যায়নের জোয়ার এক ধরনের ‘এআই বাবল’ বা অতিমূল্যায়িত বাজার তৈরি করছে। এ বাবল যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে, ফলে বড় ধস নামতে পারে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে।
ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানও বলেছিলেন, এআইয়ের কিছু অংশ বুদ্বুদ বা বাবলের মতো হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কিছু কোম্পানি বা প্রযুক্তিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব বা দাম দেয়া হচ্ছে। বাজারে এদের মূল্যায়ন বাস্তবের চেয়ে বেশি হতে পারে।
কিন্তু এএমডির প্রধান নির্বাহী লিসা সু বলছেন, এআই কোনো বুদ্বুদ নয়। ইউবিএস গ্লোবাল টেকনোলজি ও এআই কনফারেন্স ২০২৫-এ তিনি জানান, বড় বড় এআই ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথা বলার পর এ বাজারে কোনো বুদ্বুদ দেখা যায়নি।
লিসা সু মনে করেন, প্রযুক্তি খাত এখন ‘১০ বছরের সুপার সাইকেলের’ প্রথম কয়েক বছরের মধ্যে রয়েছে। এ সময়ে কম্পিউটিং প্রযুক্তি ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন স্তর উন্মোচন করছে। বাজার স্থিতিশীল এবং বড় কোম্পানিগুলো বর্তমান এআই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।
এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চেই তাই-ওনও বলছেন, এআই শিল্পে কোনো বুদ্বুদ নেই।
ওপেনএআই ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে এআই প্রযুক্তি জনপ্রিয় করেছে তুলেছে।
এরপর থেকেই বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এআইয়ের বিকাশ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় নামতে থাকে। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, চলতি দশকের শেষে বিশ্বব্যাপী এআই অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ হবে ৩-৪ ট্রিলিয়ন ডলার। এখানে বেশির ভাগ অর্থ আসবে এআই কোম্পানিগুলো থেকে।










