দ্য গার্ডিয়ান ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটসের এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে পুলিশের মাধ্যমে স্ক্যান হওয়া মানুষের মুখের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে পৌঁছেছে প্রায় ৫০ লাখে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

আইনগত কাঠামো না থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য সরকার এ প্রযুক্তির সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন করছে। চলতি গ্রীষ্মেই দক্ষিণ লন্ডনের ক্রয়ডনে স্থায়ীভাবে এলএফআর ক্যামেরা বসিয়ে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হবে।

প্রযুক্তিটির মাধ্যমে নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়া মানুষের মুখ পুলিশের ওয়াচলিস্টে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। সমালোচকরা বলছেন, এতে সাধারণ মানুষ সবসময় নজরদারির মধ্যে পড়ছে আর পুলিশ নিজের মতো করে এটি ব্যবহার করছে, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

২০২০ সালে আদালতের এক রায়ে সাউথ ওয়েলস পুলিশের এলএফআর ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর পুলিশের জন্য কিছু নির্দেশনা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত এ প্রযুক্তির ব্যবহার ও নির্ভুলতা নিয়ে কোনো জাতীয় আইন বা মানদণ্ড নির্ধারণ হয়নি।

সম্প্রতি পার্লামেন্টে পুলিশবিষয়ক মন্ত্রী ডায়ান জনসন জানান, এলএফআর ব্যবহারের জন্য আলাদা আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনাধীন। তবে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রযুক্তিটির পক্ষে জোরালো সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান ও জাতীয় পুলিশ চিফস কাউন্সিলের ফেসিয়াল রিকগনিশন বিভাগের প্রধান লিন্ডসে চিসউইক জানান, লন্ডনের চারজনের মধ্যে তিনজন পুলিশকে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে সমর্থন দিয়েছেন।

২০২৪ সালে এ প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ ৫৮৭জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে ৪২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ জন ছিলেন তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী।

চিসউইক বলেন, 'সীমিত বাজেট, কমসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও বাড়তে থাকা অপরাধের মাঝে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। পুলিশের কাজের ধরনেও পরিবর্তন আনা দরকার।'